স্ট্রাইকার-সংকটে ভুগছে বাংলাদেশ, বিশ্বনাথের ওপর আস্থা রাখছেন কোচ ডুলি

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে জয় দিয়ে শুরু করেছে বাংলাদেশ। তবে প্রথম ম্যাচের সাফল্যের আড়ালেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে দলের একটি বড় দুর্বলতা—প্রকৃত স্ট্রাইকারের অভাব।
মোহাম্মদ ইব্রাহীমের একমাত্র গোলে জয় এলেও আক্রমণভাগের গোল করার সামর্থ্য নিয়ে চিন্তিত প্রধান কোচ থমাস ডুলি।
স্ট্রাইকার-সংকটে বাধ্য হয়ে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষকে খেলিয়েছেন ‘নম্বর নাইন’ পজিশনে। গোল না পেলেও তার পারফরম্যান্স ও মাঠের উপস্থিতিতে আশাবাদী কোচ।
দলে একজন স্বাভাবিক স্ট্রাইকার না থাকার চ্যালেঞ্জের কথা অকপটেই স্বীকার করেছেন ডুলি। তার মতে, ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলতে হলে গোল করার সহজাত দক্ষতার পাশাপাশি থাকতে হবে আগ্রাসী মানসিকতা ও শারীরিক সক্ষমতা।
বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘দলে প্রকৃত নম্বর নাইন না থাকলে কাজটা সত্যিই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এই পজিশনের জন্য এমন কাউকে দরকার, যার গোল করার জন্মগত দক্ষতা আছে। প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করা, শারীরিক সক্ষমতা এবং আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ার মানসিকতা থাকাটা জরুরি। আপনি যদি শক্ত হতে না পারেন, তবে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক ঠিকই বেরিয়ে এসে বল ক্লিয়ার করবে। ফরোয়ার্ড লাইনে ভীরুদের কোনো জায়গা নেই।’
প্রথম ম্যাচে ফরোয়ার্ড হিসেবে ৬৪ মিনিট মাঠে ছিলেন ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ। দু-একটি সুযোগ তৈরি হলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। তবে বিশ্বনাথের ব্যর্থতার চেয়ে সুযোগগুলোকে দুর্ভাগ্য হিসেবেই দেখছেন ডুলি।
কোচের ভাষায়, ‘বিশ্বনাথের সামনে আসা সুযোগগুলো অনেকটাই দুর্ভাগ্যের শিকার। কখনো তাকে বলের নাগাল পেতে অনেকটা পা বাড়াতে হয়েছে, আবার হেড করার সময়ও পজিশন ঠিক ছিল না। এমনকি তার নেওয়া একটি শট ঠিক মুহূর্তে মাটিতে বাউন্স করে যায়। তবে ইতিবাচক দিক হলো, সে সঠিক জায়গাতেই উপস্থিত ছিল।’
এদিকে গ্রুপ পর্বের শেষ ও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আগামী ১১ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
সেই ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষের শক্তি-সামর্থ্য বুঝে নিতে আজ ভুটান ও শ্রীলঙ্কার ম্যাচ দেখতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন ডুলি। এই ম্যাচে শ্রীলঙ্কা জিতলে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা দুই দলই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করবে। সেক্ষেত্রে ১১ নভেম্বরের লড়াইটি হয়ে উঠবে গ্রুপসেরা নির্ধারণের ম্যাচ।
সাফের ‘বি’ গ্রুপের সমীকরণও ইতোমধ্যে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। আজ মালদ্বীপকে ৩-০ গোলে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান।
তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জটা সহজ হবে না। তাদের স্কোয়াডের ১৯ জন ফুটবলারই প্রবাসী। অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি ও সাইপ্রাসের মতো দেশের বিভিন্ন লিগে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের। শক্তিশালী ও শারীরিক সক্ষমতায় এগিয়ে থাকা এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ভালো করতে হলে বাংলাদেশের আক্রমণভাগকে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে।
তবে শ্রীলঙ্কা ম্যাচের আগে বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তির খবরও রয়েছে। এই ম্যাচ দিয়েই স্কোয়াডে ফিরছেন নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী ও ফরোয়ার্ড ফারহান আলী ওয়াহিদ। তাদের প্রত্যাবর্তনে দলের আক্রমণভাগ আরও ধারালো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এখন দেখার বিষয়, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও কি বিশ্বনাথকে ‘নম্বর নাইন’ হিসেবে খেলাবেন ডুলি, নাকি হামজা ও ফারহানের প্রত্যাবর্তনে সাজাবেন নতুন কোনো আক্রমণ পরিকল্পনা।
