গণমাধ্যমে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে নারীরা সুরক্ষা পান না, বললেন ব্রিটিশ সংস্কৃতিমন্ত্রী

গণমাধ্যমে নির্যাতনের অভিযোগ তোলা নারীদের প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়ই সুরক্ষা দেয় না বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটেনের সংস্কৃতিমন্ত্রী লিসা ন্যান্ডি। অভিনেতা রাসেল ব্র্যান্ড ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বিবিসির 'সানডে উইথ লরা কুয়েন্সবার্গ' অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ন্যান্ডিকে জিজ্ঞাসা করা হয়, গণমাধ্যম ও সৃজনশীল শিল্পে এখনো সমস্যা আছে কি না। জবাবে তিনি বলেন, 'হ্যাঁ, আছে। সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবে আমি হাতের ওপর হাত রেখে বলতে পারব না যে আজ এটা ঘটছে না। বরং বাজি ধরতে হলে বলব, ঘটছে।'
ন্যান্ডি বলেন, নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে সাহস করে এগিয়ে আসা নারীদের সঙ্গে গণমাধ্যম শিল্পের প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে আচরণ করে, তাতে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। তার ভাষায়, ওই নারীরা সুরক্ষিত নন।
তিনি বলেন, রাজনীতি ও গণমাধ্যমের মতো খাতে ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা অনেক বড়। সেখানে অনেকেই স্বল্পমেয়াদি নমনীয় চুক্তিতে কাজ করেন, আর কাকে চেনেন এবং সুনামই অনেক সময় পেশাগত অগ্রগতির চাবিকাঠি হয়ে ওঠে। ফলে মুখ খুলতে গেলে চড়া মূল্য দিতে হয়।
গত বৃহস্পতিবার রাসেল ব্র্যান্ড এক নারীকে ধর্ষণ এবং আরও তিনজনকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। সোমবার তার সাজা ঘোষণা করা হবে। রায়ের পর জানা যায়, আরও দুটি ধর্ষণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
ব্র্যান্ডের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঘটনা ব্রিটেনের বিনোদন জগতে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত তারকাদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হয়, তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলেছে। কয়েকজন নারী বলেছেন, মুখ খুললে তাদের পেশা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তারা ভয় পেতেন।
গত সপ্তাহে ন্যান্ডি বলেছিলেন, ব্র্যান্ডের মামলাটি গণমাধ্যম জগত এবং তার বাইরেও সবার জন্য একটি সতর্কবার্তা হওয়া উচিত। ব্র্যান্ডের আচরণ মোকাবিলায় ব্যর্থতা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগের মধ্যে তিনি এ কথা বলেন।
ন্যান্ডি বিবিসির প্রশংসা করে বলেন, সৃজনশীল শিল্পের কর্মীদের জন্য হুইসেলব্লোয়ার সংস্থা ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রিজ ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটিতে যোগ দেওয়াসহ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিবিসি বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে করপোরেশনটির আরও অনেক কিছু করার আছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, 'আরও কিছু প্রতিষ্ঠান আছে যারা সেটা করেনি, আর সময় শেষ। গণমাধ্যম শিল্পের সত্যিই সময় হয়েছে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে সেই চর্চাগুলো কার্যকর করার।'
এর আগে স্কাই নিউজের 'সানডে মর্নিং' অনুষ্ঠানে ন্যান্ডি বলেন, হুইসেলব্লোয়ারদের সুরক্ষায় সরকার আরও কী পদক্ষেপ নিতে পারে, তা বিবেচনা করা হচ্ছে।
সোমবার ব্র্যান্ডের সাজা ঘোষণার পর বিষয়টি আবার আলোচনায় আসবে। এদিকে হুইসেলব্লোয়ারদের সুরক্ষায় সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে গণমাধ্যম জগত।



