মাহফিল স্থগিত নিয়ে আমির হামজার বক্তব্য মিথ্যা ও বানোয়াট, আয়োজক কমিটির প্রতিবাদ

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ও ইসলামিক বক্তা মুফতি আমির হামজার বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ময়মনসিংহের শ্যামগঞ্জ বাজার বড় মসজিদ হাফিজিয়া মাদ্রাসার তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের আয়োজক কমিটি।
ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনের সংসদ সদস্য এবং বর্তমান সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসাইনকে জড়িয়ে মাহফিল বন্ধের মিথ্যা অভিযোগে বক্তব্য দেওয়ার ঘটনায় এই প্রতিবাদ জানানো হয়।
রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেলে জেলার শ্যামগঞ্জ বাজার বড় মসজিদ হাফিজিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে তাফসিরুল কোরআন মাহফিল স্থগিতের বিষয়ে স্পষ্টীকরণ সংক্রান্ত এক ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।
ব্রিফিংয়ে মাহফিল আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য হাফেজ মো. সোহেল রানা তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, শ্যামগঞ্জ বাজার বড় মসজিদ হাফিজিয়া মাদ্রাসার সাবেক ছাত্রদের উদ্যোগে আয়োজিত ৭ম বার্ষিক বিষয়ভিত্তিক তাফসিরুল কোরআন মাহফিলটি গত ৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
তিনি বলেন, অনিবার্য কারণবশত মাহফিল বাস্তবায়ন কমিটির সিদ্ধান্তে অনুষ্ঠানটি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। মাহফিলের পরবর্তী তারিখ সিদ্ধান্তক্রমে জানিয়ে দেওয়া হবে, বলে পূর্বে এক লিখিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো যাচ্ছে যে, মাহফিল স্থগিতের সিদ্ধান্তের সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য কিংবা বিএনপির কোনো নেতৃবৃন্দের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সম্পূর্ণরূপে মাহফিল বাস্তবায়ন কমিটির নিজস্ব সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই অনুষ্ঠানটি স্থগিত করা হয়েছে।
সোহেল রানা জানান, গত ১ নভেম্বর মাহফিল বাস্তবায়ন কমিটির সভায় অনুষ্ঠানটি স্থগিতের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরবর্তীতে ২ নভেম্বর লিখিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয় এবং এরপর প্রধান আলোচকের (মুফতি আমির হামজা) পিএসকে মাহফিল স্থগিতের বিষয়টি অবহিত করা হয়।
মাহফিল স্থগিতের বিষয়টি নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা অপপ্রচার না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। মাহফিলের পরবর্তী তারিখ যথাসময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান আয়োজক কমিটি।
তিনি আরও বলেন, স্থগিত হওয়া মাহফিলের আমন্ত্রিত প্রধান আলোচক (মুফতি আমির হামজা) গৌরীপুরের সংসদ সদস্য এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার এম. ইকবাল হোসাইনকে জড়িয়ে মাহফিল বন্ধের অভিযোগ তুলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সঠিক নয়।
সোহেল রানার অভিযোগ, আমির হামজা কারো দ্বারা বা কোন পক্ষের ইন্ধনে প্রভাবিত হয়ে এই বানোয়াট অভিযোগ করেছেন। প্রকৃত পক্ষে মাহফিল বাস্তবায়ন কমিটির নিজস্ব সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই অনুষ্ঠানটি স্থগিত করা হয়েছে।
মাহফিল আয়োজক কমিটির অপর সদস্য হাফেজ মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, একটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের মাহফিলের সঙ্গে ইঞ্জিনিয়ার ইকবালকে জড়ানো হয়েছে রাজনৈতিক কারণে, বিএনপিকে হেয় করার জন্য। একটি চক্র এই কাজটি করিয়েছে, প্রয়োজনে আমরা আইনের আশ্রয়ে যাবো।
এর আগে গতকাল ৭ নভেম্বর দিনগত রাতে ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলার সিংহেশ্বর ইউনিয়নের পুড়াপুটিয়া বাবা মায়ের দোয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় অনুষ্ঠিত ইসলামি মাহফিলে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ও ইসলামিক বক্তা মুফতি আমির হামজা শ্যামগঞ্জ বাজার বড় মসজিদ হাফিজিয়া মাদ্রাসার তাফসিরুল কোরআন মাহফিল বন্ধের অভিযোগে বিতর্কিত বক্তব্য দেন।
ওই বক্তব্যে তিনি মাহফিল বন্ধের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার এম. ইকবাল হোসাইনকে দায়ী করেন। এরপরই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আমির হামজার বক্তব্য ঘিরে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এদিকে মুফতি আমির হামজার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলার শ্যামগঞ্জ বাজার বড় মসজিদ কমিটির নেতারাও।
মসজিদ কমিটির সহসভাপতি বাহার উদ্দিন দুদু বলেন, ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। মূলত বিএনপি দলকে হেয় করার জন্যই একটি গুপ্ত দলের এবং গোষ্ঠীর ইন্ধনে পরিকল্পিতভাবে এই মিথ্যাচার করা হয়েছে।
কমিটির সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান আনিস বলেন, ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসাইনকে মৌখিকভাবে মাহফিলের আমন্ত্রণ দেওয়ার পর তা তিনি সাদরে গ্রহণ করেছেন। কিন্তু গুপ্তরা এসব মিথ্যাচার করছে।
গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব আব্দুর রহমান বাবুল এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, একটি স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে মুফতি আমির হামজা যে বক্তব্য দিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেনকে জড়িয়ে, তা সম্পূর্ণ কাল্পনিক মিথ্যা এবং বানোয়াট অভিযোগ।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য এবং বর্তমান সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য আমির হামজা এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। মূলত মাহফিলটি গত ২ নভেম্বর স্থগিত করেছে আয়োজক কমিটি। উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে আমি এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, মাহফিল বন্ধের বিষয়ে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগটি সঠিক না। মূলত আয়োজন কমিটিই তাদের সিদ্ধান্তে গত ২ নভেম্বর লিখিত বক্তব্যে মাহফিলটি স্থগিত করেছেন, এটিই সত্য।



