উখিয়ায় বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম, টায়ার জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ
কক্সবাজারের উখিয়ায় দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর জখম হয়েছেন পালংখালী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব ও সাবেক ইউপি সদস্য নুরুল আমিন। তাঁর মাথায় ধারালো অস্ত্রের কয়েকটি কোপ রয়েছে বলে জানান স্থানীয় বিএনপি নেতারা।
রোববার (৯ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এর আগে রাত ৮টার দিকে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী এলাকায় ১৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাছে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার পর স্থানীয় লোকজন নুরুল আমিনকে উদ্ধার করে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের নেতা ও থাইংখালী এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলমগীরের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল নুরুল আমিনের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাঁকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় কোপানো হয়। হামলায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রিত কয়েকজন সশস্ত্র রোহিঙ্গাও অংশ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নুরুল আমিনের ভাই নুরুল আবছার মুন্নার দাবি, তাঁর ভাই রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি বাজার থেকে টাকা সংগ্রহ করে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় তাঁর কাছে ২০ লাখ টাকা ছিল। ওই টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাঁকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, কিছুদিন আগে তাঁর ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে একটি বৈঠক করা হয়েছিল। ওই বৈঠকে ইউনিয়নের একজন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিও উপস্থিত ছিলেন।
পালংখালী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রেজা বলেন, নুরুল আমিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁর মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে চার থেকে পাঁচটি কোপ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁকে বাঁচাতে ও নেগেটিভ রক্তের প্রয়োজন বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী বলেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নুরুল আমিনের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
এ হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে পালংখালী স্টেশন, থাইংখালী ও উখিয়া সদরসহ কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের অন্তত চারটি স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রাত ১১টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় বলে জানা গেছে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার রাত ১২টার দিকে বলেন, সন্ত্রাসী হামলায় বিএনপির একজন নেতা গুরুতর আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান শুরু করে। বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইতোমধ্যে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং মহাসড়কে যান চলাচলও স্বাভাবিক করা হয়েছে। ঘটনাটিকে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) অভিযান শুরু করেছে।

