বিয়ে ভাঙার দ্বারপ্রান্তে গিয়েও ফিরে এলেন চিন্না ফিলিপস, স্বামীর চেষ্টাতেই বদল

উইলসন ফিলিপসের গায়িকা চিন্না ফিলিপস স্বীকার করেছেন, অভিনেতা বিলি বল্ডউইনের সঙ্গে তাঁর বিবাহ ভেঙে দেওয়ার কথা তিনি একসময় ভেবেছিলেন। তবে তিন দশকের বেশি সময়ের এই দাম্পত্য নিয়ে কাজ করার স্বামীর আন্তরিক ইচ্ছাই সবকিছু বদলে দিয়েছে।
নিউ জার্সিতে চিলার থিয়েটার এক্সপোতে ফক্স নিউজ ডিজিটালকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ফিলিপস তাঁদের দাম্পত্যের কঠিন সময়ের কথা খুলে বলেন। তিনি বলেন, বিলি ও তাঁর দাম্পত্যে সত্যিই কঠিন সময় এসেছে এবং এমন সময়ও গেছে যখন তিনি হাল ছেড়ে দিয়ে আইনজীবীকে ফোন করার কথা ভাবছিলেন।
তিনি বলেন, সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে বললে এমন সময়ও এসেছে যখন তিনি নিজেকে ভাবছিলেন, আমি আর এটা পারছি না।
তবে ভাঙনের সেই প্রান্তে পৌঁছেও ফিলিপস বলেন, স্বামী যখন সম্পর্ক নিয়ে খুব আন্তরিকভাবে কাজ করতে রাজি হলেন, তখন তাঁর মনে আশা জাগে যে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। তিনি বলেন, এরপর তাঁরা দুজন মিলে এমন কিছু পরিবর্তন আনতে পেরেছেন যা স্থায়ী হয়েছে।
ফিলিপস ব্যাখ্যা করেন, তাঁরা সাময়িক উন্নতির পর আবার পুরোনো অভ্যাসে ফিরে যাওয়ার বদলে স্থায়ী পরিবর্তন আনতে শুরু করেন। তিনি বলেন, তাঁরা খুব, খুব কঠোর পরিশ্রম করছেন।
ফিলিপস ও বল্ডউইন ১৯৯৫ সালের সেপ্টেম্বরে বিয়ে করেন। তাঁদের তিন প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান—জেমসন, ভ্যান্স ও ব্রুক।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাঁদের দাম্পত্য শিরোনামে এসেছে, কারণ তাঁরা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন দাম্পত্যের বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁরা আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। অক্টোবরে ফিলিপস নিশ্চিত করেন, দাম্পত্যের চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার মধ্যেই তিনি ও বল্ডউইন আলাদা বাড়িতে উঠেছেন।
তিনি এক ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে বলেন, আক্ষরিক অর্থে তাঁদের বিয়ে টাইটানিকের মতো ডুবছিল, আর বিলি তাঁর থেকে ৫০ গজ দূরে গেস্ট হাউসে চলে যান এবং এখন পর্যন্ত সব ঠিকঠাক চলছে। তিনি বলেন, এটা কিছুটা কাজ করছে। কী হবে তিনি নিশ্চিত নন, কিন্তু তিনি এতে আপত্তি করছেন না।
এর আগে ২০২৪ সালেও তাঁরা আলাদা থাকতেন—ফিলিপস সান্তা বারবারায় আর বল্ডউইন বেভারলি হিলসে। পরে তাঁরা আবার এক ছাদের নিচে ফিরে আসেন, তারপর আবার আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নেন।
এখন ফিলিপস ও বল্ডউইন তাঁদের সম্পর্কের আরও ঘনিষ্ঠ চিত্র দর্শকদের সামনে আনতে প্রস্তুত হচ্ছেন নতুন একটি ইউটিউব সিরিজের মাধ্যমে। 'হোল্ডিং অন: বিলি অ্যান্ড চিন্না' নামের সিরিজটি ১৭ নভেম্বর শুরু হওয়ার কথা। সাক্ষাৎকারে ফিলিপস দর্শকদের সিরিজটি দেখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এতে দাম্পত্যের উত্থান-পতন খুব খোলামেলা, খুব বাস্তব ও খুব মজারভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা এক টিজারে বল্ডউইন ও ফিলিপসকে তাঁদের সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে কথা বলতে দেখা যায়। এক ক্লিপে বল্ডউইন স্ত্রীকে বলেন, তুমি কখনো স্বীকার করতে পারো না যে তুমি ভুল। জবাবে ফিলিপস বলেন, তুমিও পারো না। আরেক ক্লিপে বল্ডউইন বলেন, ফিলিপস তাঁকে বলেছিলেন, তিনি তাঁর সঙ্গে সারাজীবন কাটাতে চান, তবে 'পাশাপাশি' থাকতে চান।
দাম্পত্যের চ্যালেঞ্জ নিয়ে খোলামেলা কথা বললেও পরিবার তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে জানান ফিলিপস। তিনি তাঁর বোন ম্যাকেঞ্জি ও বিজু ফিলিপসের সঙ্গে বদলে যাওয়া সম্পর্কের কথাও বলেন। তিনি জানান, তাঁরা একসঙ্গে বড় হননি। বিজু ও ম্যাকেঞ্জি একসঙ্গে অনেক বেশি সময় কাটিয়েছেন, আর তিনি মূলত একমাত্র সন্তান হিসেবেই বড় হয়েছেন। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি বোনদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ান, তাঁরা একসঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাতে শুরু করেন এবং এখন তাঁরা অবিচ্ছেদ্য।
ফিলিপসের বাবা ছিলেন দ্য মামাস অ্যান্ড দ্য পাপাসের প্রয়াত সংগীতশিল্পী জন ফিলিপস। তিনি বলেন, বোনদের সঙ্গে তাঁর দৃঢ় বন্ধন গড়ে উঠেছে, যদিও তাঁদের শৈশবের অভিজ্ঞতা ছিল ভিন্ন। তিনি বলেন, তাঁরা একসঙ্গে অনেক সময় কাটান এবং পরস্পরকে নিঃশর্তভাবে বিশ্বাস করেন। ভাইবোনের মতো তাঁদেরও উত্থান-পতন আছে, তবে তাঁরা পরস্পরকে খুব ভালোবাসেন।
বিশ্বাসও তাঁর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানান ফিলিপস, যদিও তিনি বলেন বোনদের সঙ্গে তিনি নিজের বিশ্বাস নিয়ে খুব বেশি কথা বলেন না। তিনি বলেন, তাঁরা জানেন যে তিনি প্রভুকে ভালোবাসেন। তাই তিনি শুধু তাঁদের জন্য প্রার্থনা করেন।
এখন ফিলিপস সান্তা বারবারায় শান্ত জীবন উপভোগ করছেন বলে জানান। সেখানে তিনি রান্না করা, হাঁটতে যাওয়া ও বাড়িতে বিশ্রাম নিতে ভালোবাসেন। তিন সন্তান এখন বড় হয়ে যাওয়ায় তিনি তাঁর দুই কুকুর হুলা ও হুপসের যত্ন নিয়ে আনন্দ পান। তিনি বলেন, বাড়িতে থেকে রান্না করতে, লম্বা ঘুম দিতে, হাঁটতে যেতে এবং বিলির সঙ্গে সময় কাটাতে তিনি খুব ভালোবাসেন।




