গভীর রিপাবলিকান ঘাঁটি মিসিসিপিতে প্রচারে নামলেন ট্রাম্প, সিনেট আসন রক্ষাই এখন চ্যালেঞ্জ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার (২৬ অক্টোবর) মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের করিন্থ শহরের ক্রসরোডস অ্যারেনায় এক নির্বাচনি সমাবেশে প্রচার চালিয়েছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের শেষ পর্বের এই প্রচার অভিযানে তিনি রিপাবলিকান সিনেটর সিন্ডি হাইড-স্মিথের পক্ষে ভোট চেয়েছেন, যিনি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী স্কট কলমের কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন।
কণ্ঠস্বর শুনে বোঝা যাচ্ছিল ট্রাম্পের গলা ভাঙা, তারপরও সমাবেশে তিনি বলেন, ‘আমি এখানে এসেছি কারণ সিন্ডি দারুণ করছে, কিন্তু আমাকে নিশ্চিত হতেই হবে। আমি কোনো ঝুঁকি নিতে পারি না।’ মঞ্চ থেকে তিনি কলমকে ‘মার্কসবাদী উগ্রপন্থী’, ‘ভুয়া’ এবং ‘মধ্যপন্থী সেজে থাকা নির্লজ্জ প্রতারক’ বলে আক্রমণ করেন।
কলম নিজেও সমাবেশস্থলে উপস্থিত ছিলেন। প্রেসিডেন্টের আগমনের আগে তিনি বলেন, ট্রাম্প সমর্থকদের মনের কথা শুনতেই তিনি সেখানে গেছেন। তাঁর ভাষায়, ‘তাঁরা আসলেই এমন একজন সিনেটরের যোগ্য, যিনি তাঁদের কথা শুনবেন, যিনি সত্যিই তাঁদের ভাবনা আর তাঁদের দুর্দশার কথা ভাববেন।’
মিসিসিপি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য রিপাবলিকান অঙ্গরাজ্যগুলোর একটি। এমন একটি রাজ্যে অক্টোবরের শেষ দিকে প্রেসিডেন্টকে প্রচারে আসতে হবে, তা রিপাবলিকানদের পরিকল্পনায় ছিল না। মূল্যস্ফীতি, ইরান যুদ্ধ এবং ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের নানা বিষয় নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের কারণে কলমের মতো অনেক ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হাউস ও সিনেটের লড়াইয়ের ক্ষেত্র বিস্তৃত করতে পেরেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
দ্বিতীয় পূর্ণ মেয়াদের জন্য লড়ছেন হাইড-স্মিথ। ট্রাম্প যে রাজ্যে তিনবার গড়ে প্রায় ২০ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জিতেছেন, সেখানে তিনিই এখনো এগিয়ে থাকা প্রার্থী বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে স্থানীয় প্রসিকিউটর কলম জয়ী হলে পুনর্গঠন যুগের পর তিনি হবেন মিসিসিপির প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ সিনেটর।
রাজ্যটির সিনেট ইতিহাসও লড়াইটির কঠিন চিত্র তুলে ধরে। মিসিসিপির ভোটাররা ১৯৪৭ সালের পর কোনো নতুন ডেমোক্র্যাট সিনেটর বেছে নেননি, আর ডেমোক্র্যাটরা সেখানে সর্বশেষ সিনেট নির্বাচনে জিতেছিলেন ১৯৮২ সালে, সাবেক বিচ্ছিন্নতাবাদী জন স্টেনিসের শেষ পুনর্নির্বাচনে। তা সত্ত্বেও সিনেট ডেমোক্র্যাটদের সুপার পিএসি দেরিতে হলেও এই লড়াইয়ে ১২ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেছে।
ট্রাম্পের এই সফর দিয়ে শুরু হচ্ছে এক সপ্তাহের জোরদার প্রচার। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৪ সালে তিনি স্বস্তিতে জেতা টেক্সাস, সাউথ ক্যারোলাইনা ও আইওয়া অঙ্গরাজ্যে সফর। কর্মকর্তারা সোমবার রাতে জানিয়েছেন, শনিবার কানসাসের সালিনায়ও তিনি সমাবেশ করবেন, যা দুই সপ্তাহের কম সময়ে রাজ্যটিতে তাঁর দ্বিতীয় সফর।
ডেমোক্র্যাট শিবিরেও বড় নেতারা মাঠে নেমেছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যে তিন কোটির বেশি ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিস সোমবার উইসকনসিনের মিলওয়াকিতে মিলওয়াকি কাউন্টি এক্সিকিউটিভ ডেভিড ক্রাউলির সঙ্গে প্রচার চালিয়েছেন; গভর্নর পদে ক্রাউলির প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাম্পের মিত্র রিপাবলিকান প্রতিনিধি টম টিফানি। নির্বাচিত হলে ক্রাউলি হবেন এই ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্যের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নর। ‘উইমেন ফর ক্রাউলি’ সমাবেশে হ্যারিস বলেন, ‘এটি কঠিন লড়াই, কারণ বাজি অনেক বড়।’
মিশিগানে ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ রিবেলিয়ন পিএসি নামের একটি গোষ্ঠীর তৈরি বিজ্ঞাপন থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছেন, যে বিজ্ঞাপনে মুদি পণ্যের দাম বাড়ার জন্য ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন সমর্থনকে দায়ী করা হয়েছে। তাঁর প্রচার শিবিরের মুখপাত্র রক্সি রিচনার বিবৃতিতে বলেন, বিজ্ঞাপনটির সঙ্গে এল-সায়েদের প্রচারের কোনো সম্পর্ক নেই। ডেমোক্র্যাট প্রাইমারিতে এল-সায়েদের কাছে অল্প ব্যবধানে হারা প্রতিনিধি হ্যালি স্টিভেন্স বিজ্ঞাপনটির নিন্দা করেছেন। নির্বাচিত হলে এল-সায়েদ হবেন দেশটির প্রথম মুসলিম সিনেটর।
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সোমবার কানসাসে সিনেটর রজার মার্শালের পক্ষে প্রচার করেন, যিনি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও যাজক অ্যাডাম হ্যামিল্টনের সঙ্গে কঠিন লড়াইয়ে আছেন। হ্যামিল্টনের তুলনায় অনেক কম তহবিল সংগ্রহ করা মার্শাল জনতাকে বলেন, ভোটের তালিকায় ট্রাম্পের নাম না থাকলেও তিনিই এই নির্বাচনে বাজির কেন্দ্রে, কারণ ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে তাঁর কর্মসূচি আটকে দেবে। এর আগে ভ্যান্স মন্টানার বেলগ্রেডে রিপাবলিকান অ্যারন ফ্লিন্ট ও সিনেট প্রার্থী কার্ট আলমের পক্ষে প্রচার চালান।
মিসিসিপির সমাবেশে ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে বলেন, পেট্রোলের দাম তাঁর প্রত্যাশার চেয়েও বেশি বাড়বে বলে তিনি ভেবেছিলেন; যুদ্ধ নিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘সব ঠিকঠাক হয়েছে এবং এটি শিগগিরই শেষ হবে।’ অন্যদিকে ন্যাশনাল রিপাবলিকান সিনেটোরিয়াল কমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর টিম স্কট সোমবার অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, সাউথ ক্যারোলাইনাসহ সারা দেশে রিপাবলিকান প্রার্থীরা ‘খুব শক্তভাবে শেষ করছেন’।



