সাগর-রুনি হত্যার তদন্তে জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য: হাইকোর্টে জানালেন অ্যাটর্নি জেনারেল, সময় বাড়ল ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) হাইকোর্টে মামলার তদন্তসংক্রান্ত অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর সাংবাদিকদের তিনি এই তথ্য জানান।
অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপক্ষ এই প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করেছে।
তিনি আরও জানান, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বরিশালের বাসভবন থেকে জব্দ করা নথিপত্রের মধ্যে প্রায় ৩০০টি সিডি উদ্ধার করা হয়েছিল। সেগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করতে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্সের আরও কিছু সময় প্রয়োজন।
তবে অ্যাটর্নি জেনারেল মন্তব্য করেন, সংশ্লিষ্টতার তথ্য আসা মানেই অপরাধে সরাসরি জড়িত থাকা প্রমাণিত হওয়া নয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আদালতের পরবর্তী কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মঙ্গলবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে মামলাটির তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত আগামী বছরের ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা বাড়িয়ে দিয়েছেন।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি।
পরদিন শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়েরের পর তদন্তের দায়িত্ব পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) হয়ে হাইকোর্টের নির্দেশে পায় র্যাব। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর র্যাবকে তদন্ত থেকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন আদালত। সেই টাস্কফোর্সই বর্তমানে মামলাটির তদন্ত পরিচালনা করছে।




