৫২ বছর পর ডিএনএ প্রমাণে টেড বান্ডির শিকার হিসেবে শনাক্ত কিশোরী মেলিসা স্মিথ

যুক্তরাষ্ট্রের ইউটা অঙ্গরাজ্যের কর্তৃপক্ষ উন্নত ডিএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করে কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার টেড বান্ডিকে ৫২ বছর আগে নিহত এক কিশোরীর হত্যার সঙ্গে যুক্ত করেছে। স্থানীয় পুলিশ প্রধানের মেয়ে ১৭ বছর বয়সী মেলিসা অ্যান স্মিথের মরদেহ ১৯৭৪ সালের ২৭ অক্টোবর শিকারিরা খুঁজে পেয়েছিলেন; মরদেহে ধর্ষণ ও নির্যাতনের চিহ্ন ছিল।
চলতি বছরের এপ্রিলে ইউটা কর্মকর্তারা কিশোরী লরা অ্যান এইমকে বান্ডির আরেক শিকার হিসেবে শনাক্ত করেন। সেই মামলায় সংগৃহীত প্রমাণ পরে স্মিথের মামলাটি সমাধানে কাজে লাগানো হয়।
১৯৮৯ সালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বান্ডি ইউটায় আরও দুই কিশোরীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অন্তত ৩০টি হত্যার সঙ্গে তাঁকে যুক্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইউটা কাউন্টির সার্জেন্ট মাইক রেনল্ডস বলেন, রাজ্যে বান্ডির আরও মামলা এখনো পরীক্ষা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি মামলার নিষ্পত্তির মধ্য দিয়ে আমরা যেন টেড বান্ডির স্মৃতি মুছে ফেলতে পারি।’
সল্ট লেক কাউন্টির শেরিফ রোজি রিভেরা বলেন, এই শনাক্তকরণ পুরনো অনিষ্পন্ন মামলার ভুক্তভোগীদের জন্য একটি বার্তা যে আশা আছে। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন ফরেনসিক বদলাচ্ছে এবং আমরা এই মামলাগুলো বারবার নতুন করে দেখার সুযোগ পাচ্ছি।’
রিভেরা এত বছর ধরে মামলার প্রমাণ সংরক্ষণ করে রাখার জন্য গোয়েন্দাদের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দশক পেরিয়ে গেলেও প্রমাণ সংরক্ষণের প্রয়োজন কতটা, এই মামলা তা দেখিয়ে দেয়।
এপ্রিলে ইউটা ব্যুরো অব ফরেনসিক সার্ভিসেসের পরিচালক সল্ট লেক ট্রিবিউনকে জানিয়েছিলেন, রাজ্যে ৪৪৪টি অনিষ্পন্ন মৃত্যু তদন্ত রয়েছে, যার মধ্যে ২৫৮টি হত্যা।
বান্ডি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে কুখ্যাত সিরিয়াল কিলারদের একজন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আক্রমণ শুরু করেন। তিনি প্রায়ই প্রকাশ্য স্থানে নারীদের কাছে গিয়ে আকর্ষণীয় আচরণ কিংবা জখমের ভান করে তাঁদের আস্থা অর্জন করতেন, তারপর তাঁদের নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে হত্যা করতেন।
১৯৭৫ সালে এক নারীকে অপহরণের অভিযোগে প্রথম গ্রেপ্তার হয়ে বান্ডির ১৫ বছরের কারাদণ্ড হয়। ১৯৭৭ সালে তিনি কারাগারের লাইব্রেরির জানালা দিয়ে লাফিয়ে পালিয়ে যান। আট দিন পর আবার ধরা পড়লেও তিনি ফের পালিয়ে যান এবং হত্যা চালিয়ে যেতে থাকেন; শেষ পর্যন্ত ১৯৭৮ সালে তিনি ধরা পড়েন।



