নওগাঁয় শ্যালিকাকে বিয়ে করা মাসুদ রানা লাইভে ক্ষমা চেয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাকের ঘোষণা দিলেন

নওগাঁয় প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় আপন শ্যালিকাকে বিয়ে করে সমালোচনার মুখে পড়া মাসুদ রানা ফেসবুক লাইভে এসে ক্ষমা চেয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে লাইভে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং একই সঙ্গে দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ঘোষণা দেন।
মাসুদ রানা নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি টিকটক ভিডিও তৈরি করেন এবং একজন আইনজীবীর সহকারী হিসেবে কাজ করতেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বদলগাছী উপজেলার সদর ইউনিয়নের বৈরাগীপাড়ায় প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন মাসুদ রানা। গত ২৫ অক্টোবর তিনি প্রথম স্ত্রীর ছোট বোনকে বিয়ে করেন।
বিয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই স্ত্রীকে নিয়ে ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করলে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এর মধ্যে বদলগাছী উপজেলা সদরে তাঁদের ভাড়া বাসা ছেড়ে দিতে বলা হয় বলে জানা গেছে।
এর আগে মাসুদ রানা দাবি করেছিলেন, প্রথম স্ত্রীর সম্মতি ও সহযোগিতায় তিনি শ্যালিকাকে বিয়ে করেছেন। তাঁর ভাষ্য ছিল, শ্যালিকার অন্যত্র বিয়ে হলে তাঁদের আগে ধারণ করা কিছু টিকটক ভিডিও নিয়ে তাঁকে হয়রানির শিকার হতে হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।
এই ঘটনার জেরে সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি নারায়ণপুর গ্রামে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা ওই যুবক ও তাঁর দুই স্ত্রীর মুখে চুনকালি মাখিয়ে এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করেন। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ফেসবুক লাইভে মাসুদ রানা বলেন, প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে রেখেই আপন শ্যালিকাকে বিয়ে করা ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় ভুল। বিষয়টি সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
লাইভে তিনি বলেন, ‘সমাজ ও পরিস্থিতি যেভাবে চাইবে, আমি এখন সেভাবেই জীবন পরিচালনা করব। যাকে বিয়ে করেছি, সেই শ্যালিকাকে আমি তালাক দেব।’ একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের ছবি ও ভিডিও প্রচার বন্ধ করারও অনুরোধ জানান তিনি।
মাসুদ রানা লাইভে আরও বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে বিষয়টি নিষিদ্ধ—এ সম্পর্কে আগে জানলে তাঁরা এমন সিদ্ধান্ত নিতেন না।




