অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় নির্বাচন উপহার দেবে সরকার: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, সরকার শান্তিপূর্ণ, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় নির্বাচন উপহার দেবে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসে রাজধানীর বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সালের সঙ্গে অন্য প্রার্থীর শান্তিপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে; এখানে কোনো পক্ষপাত হচ্ছে না।
শাহে আলম বলেন, একই ধারাবাহিকতায় জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনও অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। তিনি আরও বলেন, সরকার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনগুলোও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজন করবে। জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতোমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের রূপরেখা ঘোষণা করেছে। দেশের প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আগামী বছরের ২৭ মের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা নিয়েছে কমিশন। এ লক্ষ্যে সাত ধাপের পরিবর্তে পাঁচ ধাপে ভোট আয়োজনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে।
রোডম্যাপ অনুযায়ী, প্রথম ধাপের ভোট হবে ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি। এরপর ৪ ফেব্রুয়ারি, ২৯ এপ্রিল, ১৩ মে ও ২৭ মে পর্যায়ক্রমে বাকি চার ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সোমবার (১২ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশনের ১৩তম সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে কমিশনের সভাকক্ষে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময়সূচি, ধাপ নির্ধারণ এবং নির্বাচন পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
ব্রিফিংয়ে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, সময় স্বল্পতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ধাপ সাতটি থেকে কমিয়ে পাঁচটি করা হয়েছে। কমিশনার জানান, পাঁচ ধাপের ভোটগ্রহণের তারিখ বৃহস্পতিবার নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে বৃহস্পতিবার ও রোববারের মধ্যে ভোটের দিন সীমিত রাখার চেষ্টা করেছে কমিশন। তবে ঘোষিত তারিখগুলো নির্বাচনী আয়োজনের সামগ্রিক পরিকল্পনার অংশ; সংশ্লিষ্ট এলাকার জন্য চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণার পর প্রার্থীদের মনোনয়ন, যাচাই-বাছাই, প্রত্যাহার ও প্রচারসহ অন্যান্য কার্যক্রমের সময়সূচি স্পষ্ট হবে।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, আইন অনুযায়ী যেসব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনী মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে বা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচনী চক্রে প্রবেশ করবে, সেগুলোকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। সব মিলিয়ে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনায় অগ্রাধিকারের বিষয়টিও তুলে ধরেছেন নির্বাচন কমিশনার। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের সব জেলায় একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে উপজেলা সদরসংলগ্ন ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি যেসব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনী মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে বা দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন বকেয়া রয়েছে, সেগুলোকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বাকি ইউনিয়ন পরিষদগুলোর ক্ষেত্রে উপজেলাগুলোর মধ্যে বর্ণানুক্রমিকভাবে সমন্বয় করার চেষ্টা করবে কমিশন। তবে কোন জেলা বা উপজেলার কোন ইউনিয়ন কোন ধাপে ভোটের আওতায় আসবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তালিকা এখনো ঘোষিত রোডম্যাপে উল্লেখ করা হয়নি।
প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদে পাঁচ ধাপে নির্বাচন আয়োজন নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় ধরনের প্রশাসনিক কর্মযজ্ঞ। প্রতিটি ধাপে ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র, নির্বাচনী কর্মকর্তা, ব্যালট ও অন্যান্য সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয় এবং ভোটগ্রহণের পরিবেশ নিশ্চিত করার মতো কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় সরকারের তৃণমূল পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। গ্রামীণ এলাকার নাগরিক সেবা, স্থানীয় উন্নয়ন, অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিভিন্ন সরকারি সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়নে এই প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা রয়েছে। ফলে এই নির্বাচন কেবল জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া নয়, স্থানীয় সরকারব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব ও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতার সঙ্গেও যুক্ত।
ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে প্রথম দুই ধাপের ভোটের পর এপ্রিলের শেষ দিকে তৃতীয় ধাপের নির্বাচন হবে এবং মে মাসে পরপর দুই ধাপের ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এখন নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রস্তুতি সম্পন্ন করা, পর্যায়ভিত্তিক তফসিল ঘোষণা এবং প্রতিটি এলাকায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করাই হবে কমিশনের সামনে প্রধান কাজ।




