মধ্যবর্তী নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে আগাম ভোটে টেক্সাস ও জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাটদের উৎসাহের আভাস

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর এক সপ্তাহেরও কম বাকি থাকতে টেক্সাস ও জর্জিয়ার আগাম ভোটের একটি বিশ্লেষণে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি উৎসাহের আভাস মিলেছে। এবিসি নিউজের ওই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যারা নিয়মিত ভোট দেন না, তাদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের উপস্থিতি কিছুটা বেশি দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে টেক্সাসে।
ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকশন ল্যাবের হিসাবে, বুধবার বিকেল পর্যন্ত সারা দেশে ৩ কোটি ৯০ লাখের বেশি আমেরিকান আগাম ভোট দিয়েছেন।
বিশ্লেষণটি বলছে, উপস্থিতির এই আপাত ঊর্ধ্বগতির বড় অংশই এমন ভোটারদের, যারা সম্ভবত নির্বাচনের আগের বাকি দিনগুলোতে কিংবা নির্বাচনের দিনই ভোট দিতেন। তবে কম নিয়মিত ভোটারদের মধ্যে যারা আগেভাগেই ভোট দিয়েছেন, তাদের ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে দেখা যাচ্ছে।
তবে বিশ্লেষণে একটি সতর্কতাও রয়েছে। এটি যে এলটু নামের ভোটার রেকর্ড প্রতিষ্ঠানের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, তা থেকে কে কাকে ভোট দিয়েছেন তা বোঝা যায় না এবং নির্বাচনের দিন কারা ভোট দিতে আসবেন সে সম্পর্কেও এতে কিছু বলা হয়নি।
টেক্সাস ও জর্জিয়া—কোনো রাজ্যেই ভোটাররা দল অনুযায়ী নিবন্ধিত হন না। তাই বিশ্লেষণে এলটুর মডেল ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে প্রাইমারিতে ভোটদানের মতো উপলব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে একজন ভোটার কোন দলকে সমর্থন করতে পারেন তা অনুমান করা হয়।
টেক্সাসে বুধবার পর্যন্ত ৫০ লাখের বেশি ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন, যা রাজ্যটির নিবন্ধিত ভোটারের ২০ শতাংশের বেশি বলে ইলেকশন ল্যাব জানিয়েছে।
টেক্সাসে সিনেট ও গভর্নর—দুটি পদেই ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা লড়াই চলছে। ১৯৯৪ সালের পর রাজ্যব্যাপী কোনো নির্বাচনে জিততে না পারলেও ডেমোক্র্যাটরা এবার দুটি পদই ছিনিয়ে নেওয়ার আশা করছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার রাজ্যটিতে দুবার সমাবেশ করেছেন। রিপাবলিকানদের ভাষ্য, রিপাবলিকানপ্রবণ রাজ্যগুলোতে প্রেসিডেন্টের এই সফরের উদ্দেশ্য তার সমর্থকগোষ্ঠীকে মাঠে নামানো এবং যেসব রিপাবলিকান এবার বসে থাকতে পারতেন, তাদের অনুপ্রাণিত করা।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত টেক্সাসের আগাম ভোটের ৫১ শতাংশই এমন ভোটারদের, যাদের ডেমোক্র্যাটকে ভোট দেওয়ার সম্ভাব্য হিসেবে মডেল করা হয়েছে; রিপাবলিকানদের ক্ষেত্রে এই হার ৪৫ শতাংশ। ২০২২ সালে আগাম ভোট শেষে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের চেয়ে প্রায় ৮ শতাংশ পয়েন্টে পিছিয়ে ছিলেন—সেই তুলনায় এবার ডেমোক্র্যাটদের দিকে ১৪ শতাংশ পয়েন্টের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ২০২৪ সালে ট্রাম্প টেক্সাসে ১৪ পয়েন্টে জিতেছিলেন।
টেক্সাসে গত চারটি ফেডারেল নির্বাচনের চারটিতেই ভোট দেওয়া নিয়মিত ভোটাররা সোমবার পর্যন্ত আগাম ভোটের ৬০ শতাংশ। ২০২৪ সালের মোট আগাম ভোটে এই গোষ্ঠীর অংশ ছিল ৪৭ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ৪৪ শতাংশ। বিশ্লেষণ বলছে, এর অর্থ এই নয় যে নিয়মিত ভোটার বেশি এসেছেন; বরং কম নিয়মিত ভোটারের অংশ এবার তুলনামূলক কম।
অন্যদিকে টেক্সাসে গত চারটি ফেডারেল নির্বাচনের একটিতেও ভোট না দেওয়া যেসব ভোটার এবার আগাম ভোট দিয়েছেন, সোমবার পর্যন্ত তাদের ৬৪ শতাংশকে ডেমোক্র্যাটসম্ভাব্য ও ২১ শতাংশকে রিপাবলিকানসম্ভাব্য হিসেবে মডেল করা হয়েছে। ২০২২ সালের মোট আগাম ভোটে এই গোষ্ঠীতে ডেমোক্র্যাটসম্ভাব্য ছিলেন ৫০ শতাংশ ও রিপাবলিকানসম্ভাব্য ৩৯ শতাংশ। বিশ্লেষণের ভাষ্য, ঘনিষ্ঠ লড়াইগুলো প্রান্তিক ব্যবধানেই নির্ধারিত হয় এবং টেক্সাসের জরিপগুলোতেও সিনেট ও গভর্নর লড়াই ঘনিষ্ঠ দেখা যাচ্ছে; তাই রিপাবলিকানদের এখন তাদের কম উৎসাহী সমর্থকদের মাঠে নামাতে হবে।
জর্জিয়ায় বুধবার সকাল পর্যন্ত ২১ লাখের বেশি ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন বলে ইলেকশন ল্যাব জানিয়েছে। সেখানেও সিনেট ও গভর্নর লড়াই ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
জর্জিয়ার সিনেট লড়াইয়ে রিপাবলিকান প্রতিনিধি মাইক কলিন্স বর্তমান ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফকে হারাতে চাইছেন। গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাট ও আটলান্টার সাবেক মেয়র কেইশা ল্যান্স বটমসের প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান ব্যবসায়ী রিক জ্যাকসন; দুই দলই এই লড়াইকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মনে করছে।
এবিসি নিউজের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জর্জিয়ার আগাম ভোটের ৫৪ শতাংশ ডেমোক্র্যাটসম্ভাব্য ভোটারদের এবং ৩৮ শতাংশ রিপাবলিকানসম্ভাব্য ভোটারদের।
জর্জিয়ায় গত চারটি ফেডারেল নির্বাচনের সব কটিতে ভোট দেওয়া নিয়মিত ভোটাররা সোমবার পর্যন্ত আগাম ভোটের ৬৭ শতাংশ। ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে এই গোষ্ঠীর অংশ ছিল মোট আগাম ভোটের ৫৫ শতাংশ।
জর্জিয়ায় গত চারটি ফেডারেল নির্বাচনের একটিতেও ভোট না দিয়ে এবার আগাম ভোট দেওয়া ভোটারদের মধ্যে সোমবার পর্যন্ত ৫২ শতাংশ ডেমোক্র্যাটসম্ভাব্য ও ১২ শতাংশ রিপাবলিকানসম্ভাব্য হিসেবে মডেল করা হয়েছে। ২০২২ সালে এই সময়ে ওই হার ছিল যথাক্রমে ৫১ ও ২৭ শতাংশ। গত চারটির মধ্যে দুটিতে ভোট দেওয়া ভোটারদের ক্ষেত্রে এবার ৫৬ শতাংশ ডেমোক্র্যাটসম্ভাব্য ও ২৪ শতাংশ রিপাবলিকানসম্ভাব্য; ২০২২ সালের এই সময়ে তা ছিল ৫৪ ও ৩৫ শতাংশ।




