প্রাথমিকে ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ ও অতিরিক্ত বই নিষিদ্ধসহ তিন দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ

প্লে, নার্সারি ও কেজির মতো অননুমোদিত প্রাক্-প্রাথমিক কোর্স নিষিদ্ধ, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) অনুমোদিত বোর্ডবইয়ের বাইরে অতিরিক্ত বই নিষিদ্ধ করার দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) জনস্বার্থে নোটিশটি পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং এনসিটিবির চেয়ারম্যানকে রেজিস্টার্ড ডাকযোগে নোটিশটি পাঠানো হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদ এবং প্রাথমিক শিক্ষা (বাধ্যতামূলককরণ) আইন, ১৯৯০ অনুযায়ী দেশে প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বজনীন, গণমুখী ও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন ও ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ শিশুদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে বলে নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্লে, নার্সারি, কেজি-১ ও কেজি-২-এর মতো একাধিক প্রাক্-প্রাথমিক স্তরে শিশুদের ভর্তি করিয়ে তাদের ওপর অতিরিক্ত পড়াশোনা ও বইয়ের বোঝা চাপানোর বিষয়টি নোটিশে তুলে ধরা হয়েছে। এসব অননুমোদিত কোর্স নিষিদ্ধ করে কেবল সরকার অনুমোদিত একক প্রাক্-প্রাথমিক শ্রেণি চালু রাখার দাবি জানানো হয়েছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার বিরোধিতা করে নোটিশে বলা হয়েছে, লিখিত পরীক্ষা, স্ক্রিনিং টেস্ট ও মৌখিক পরীক্ষার মতো প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া শিশুদের মধ্যে ভীতি ও মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে। প্রাথমিক শিক্ষাকে উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আনন্দময় রাখতে এ ধরনের ভর্তি পরীক্ষা সম্পূর্ণ বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।
এনসিটিবির মূল পাঠ্যবইয়ের বাইরে অতিরিক্ত ব্যাকরণ বই, ওয়ার্কবুক ও সহায়ক বই চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়েও নোটিশে আপত্তি জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত বই ও পাঠ্যসূচির চাপ শিশুদের শারীরিক ক্লান্তি ও মানসিক অবসাদ তৈরি করতে পারে এবং তাদের চিন্তাশক্তি, কল্পনাশক্তি ও সৃজনশীলতার বিকাশ বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, শৈশবে অতিরিক্ত পড়াশোনা, ভর্তি পরীক্ষার চাপ ও মুখস্থনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা শিশুদের মুক্তচিন্তা ও সৃজনশীলতার বিকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মামুনের মতে, এ ধরনের চাপ সংবিধানের ১৭, ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে উল্লিখিত গণমুখী শিক্ষা, সমতা, আইনের আশ্রয়লাভ এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবন ও শারীরিক সুস্থতার অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
নোটিশে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে তিনটি বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে—অননুমোদিত প্রাক্-প্রাথমিক কোর্স নিষিদ্ধ ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ করা; এনসিটিবির বোর্ডবইয়ের বাইরে অতিরিক্ত বই চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া; এবং এসব বিষয়ে তদারকির জন্য উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে দল গঠন করা।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে শিশুদের সুরক্ষায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।




