মা ইলিশ রক্ষায় নৌবাহিনীর ২২ দিনের অভিযান শেষ: জব্দ ৬১ কোটি টাকার অবৈধ জাল ও সরঞ্জাম

মা ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের বিশেষ অভিযান শেষ করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত এই অভিযানে জব্দ করা সামগ্রীর আনুমানিক মূল্য ৬১ কোটি ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮৯০ টাকা। শুক্রবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২২ দিনে মোট ২১২টি অভিযান চালিয়ে ৮৪ লাখ ২১ হাজার ৬৭০ মিটার অবৈধ জাল, ১৬৬টি বিভিন্ন ধরনের জাল, চারটি বোট এবং ৫৭০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করেছে নৌবাহিনী। এ ছাড়া অভিযানে ৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয় সম্পদ ইলিশের নিরাপদ প্রজনন, বংশবিস্তার ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় এই অভিযান পরিচালনা করে নৌবাহিনী।
২২ দিনের অভিযানে দেশের ৯টি জেলায় সাতটি জাহাজ ও বিভিন্ন কন্টিনজেন্টের মাধ্যমে নিয়মিত টহল ও নজরদারি চালানো হয়। সমুদ্র, উপকূলীয় অঞ্চল এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে ইলিশের প্রধান প্রজননক্ষেত্রগুলোতে অভিযান চালানো হয়েছে।
গভীর সমুদ্রে দেশি-বিদেশি মাছ ধরার নৌযানের অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ আহরণ ঠেকাতে নৌবাহিনীর জাহাজের পাশাপাশি মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফটের মাধ্যমেও নজরদারি করা হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও মৎস্য অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেছে নৌবাহিনী।
অভিযানে জব্দ করা অবৈধ জাল স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হয়েছে। জব্দ করা জাটকা স্থানীয় এতিমখানায় দান করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী ব্যক্তি ও মাছ ধরার বোটগুলোকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অভিযান চলাকালে জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে প্রচার-প্রচারণাও চালানো হয়েছে বলে আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইএসপিআর বলছে, মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন ও বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধিতে এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে দেশের সামুদ্রিক ও অভ্যন্তরীণ জলাশয়ের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং টেকসই ব্যবস্থাপনার পথ সুগম হচ্ছে।
নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ায় জেলেরা আবার স্বাভাবিকভাবে মাছ আহরণ ও জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পাচ্ছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।




