সৌদি অগ্নিকাণ্ডে নিহত শেষ সাত বাংলাদেশির মরদেহ দেশে, নওগাঁয় ছেলের অপেক্ষায় মা নার্গিস
সৌদি আরবের রিয়াদের সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে বাকি থাকা সাতজনের মরদেহ দেশে এসে পৌঁছেছে। তাঁদের পাঁচজনের বাড়ি নওগাঁ জেলায়। শনিবার (৩১ অক্টোবর) নওগাঁ শহরের পার নওগাঁ এলাকায় নিহত শাহিনের বাড়িতে তাঁর মা নার্গিস বেগম ছেলের মরদেহের অপেক্ষায় বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন; আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরাও একনজর দেখার অপেক্ষায় ছিলেন।
নার্গিস বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, শাহিন তাঁকে ফল কিনে খাওয়ার জন্য টাকা পাঠাতে চেয়েছিল। তাঁর ভাষায়, ‘শাহিন বললো, মা ১২ তারিখে টাকা পাঠাবোনি, ফল কিনে খাইও। ফল খাওয়ার জন্য টাকা পাঠাতে চেয়েছিল, কিন্তু আমার ছেলেটা আগুনে পুড়ে মরে গেলো। আমি তো একা হয়ে গেলাম, আমি এখন বাঁচবো কী করে।’
ভাগ্য বদলের আশায় এ বছরের এপ্রিলে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ করে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন পার নওগাঁ এলাকার বাসিন্দা শাহিন। দেশে রেখে গিয়েছিলেন স্ত্রী, ছয় বছরের ছেলে, আট মাস বয়সী মেয়ে ও ষাটোর্ধ্ব মাকে। বিদেশে যাওয়ার পাঁচ মাসের মাথায় তিনি মারা যান।
শাহিনের মামি নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, শাহিনের বয়স যখন চার বছর, তখন তাঁর বাবা মারা যান; ছোটবেলা থেকে অনেক কষ্ট করে বড় হয়েছেন তিনি। মামির ভাষায়, মারা যাওয়ার তিন দিন আগে শাহিন প্রথম টাকা পাঠানোর কথা বলেছিলেন—১২ তারিখে ৩২ হাজার টাকা পাঠাতে চেয়েছিলেন, যার ২০ হাজার টাকায় কিস্তি শোধ আর বাকি টাকায় সংসারের কেনাকাটা করার কথা ছিল।
শাহিনের মামা আব্দুস সালাম বলেন, ছোটবেলা থেকেই তাঁর ভাগনে ছিল পরিশ্রমী; বাবা মারা যাওয়ার পর মা অনেক কষ্ট করে তাঁকে মানুষ করেন। ধারদেনা করে বিদেশে যাওয়া ছেলেটি টাকা পাঠানো শুরুর আগেই মারা গেল উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবারটি একা হয়ে গেছে। সরকারের কাছে পরিবারটির দিকে সুনজর দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেছেন, মরদেহগুলো বিনা খরচে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারগুলোকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি।
গত ৯ আগস্ট রিয়াদের ওই সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি প্রবাসী মারা যান। তাঁদের মধ্যে ১২ জনের বাড়ি নওগাঁ জেলায়। গত ২৭ আগস্ট প্রথম ধাপে নয়জনের মরদেহ দেশে আসে; আজ এলো বাকি সাতজনের মরদেহ।
আজ আসা মরদেহগুলোর মধ্যে নওগাঁর পাঁচজন হলেন পার নওগাঁ এলাকার মজনু রহমানের ছেলে শাহিন, আত্রাই উপজেলার ডুবাই গ্রামের নাজমুল হুদার ছেলে হাসিবুল হাসান শুভ, একই উপজেলার মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের আক্কাস প্রামানিকের ছেলে মিনহাজ প্রামানিক, মাধবপুর গ্রামের মজনু সরদারের ছেলে মাসিদুল সরদার সজিব এবং সাধনগর গ্রামের আজহার আলীর ছেলে সাগর আলী।



