যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বদলেছে, ইউরোপের আরও কাছে যেতে হবে ব্রিটেনকে: সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্টারমার

যুক্তরাষ্ট্র আগের তুলনায় কম নির্ভরযোগ্য অংশীদারে পরিণত হওয়ায় ব্রিটেনসহ ইউরোপের দেশগুলোকে পরস্পরের আরও কাছে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন কিয়ার স্টারমার। ডাউনিং স্ট্রিট ছাড়ার পর প্রথম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বক্তব্যে সাবেক এই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
শুক্রবার ব্রিটিশ আইরিশ চেম্বার অব কমার্সের এক অনুষ্ঠানে স্টারমার বলেন, একটি শক্তিশালী ইউরোপ অপরিহার্য এবং ব্রিটেনকে তার কেন্দ্রেই থাকতে হবে। তাঁর ভাষায়, অনুমানযোগ্য ঘটনার জন্য প্রস্তুতি নিতে ব্যর্থ হয়ে ইউরোপ এরই মধ্যে দুবার ধরা খেয়েছে।
প্রথমবার রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তায় ইউরোপের দীর্ঘদিনের দুর্বলতা প্রকাশ করে দিয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র আর ইউরোপের নিরাপত্তার খরচ বহন করবে না।
স্টারমার বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির সময় ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কে যে পরিবর্তন এসেছে, তিনি ওভাল অফিস ছাড়ার পর তা আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। এটিকে তিনি ট্রাম্প যুগের সাময়িক ব্যতিক্রম নয়, বরং পরিস্থিতির স্থায়ী পরিবর্তন হিসেবে বর্ণনা করেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আর গুরুত্বপূর্ণ নয়, এমনটাও তিনি বলেননি। তাঁর মতে, সামরিক, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা জোট এতটাই শক্তিশালী যে তা গুরুত্ব হারাতে পারে না। বরং ইউরোপকে নিজের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব অনেক বেশি নিতে সক্ষম হতে হবে।
জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার আগেও স্টারমার ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার তিন মাস আগে, ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের যুদ্ধ এবং ন্যাটো থেকে সরে আসার হুমকির সময় তিনি ইউরোপকে একটি বিপজ্জনক বিশ্বে একসঙ্গে চলার অংশীদারত্ব হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
স্টারমার বলেন, এই ঘনিষ্ঠতা শুধু প্রতিরক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। ব্রেক্সিট ব্রিটেনের অর্থনীতির গভীর ক্ষতি করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন এবং ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা সহযোগিতাসহ আরও উচ্চাভিলাষী সম্পর্কের কথা বলেন।
ডাবলিনে জ্যেষ্ঠ ব্যবসায়ী নেতা ও রাজনীতিকদের সঙ্গে সময় কাটানোর পর তিনি এই বক্তব্য দেন। সেখানে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী (তিশখ) মিখল মার্টিনের সঙ্গেও তাঁর বৈঠক হয়, যাঁর সঙ্গে তিনি বার্ষিক যুক্তরাজ্য-আয়ারল্যান্ড শীর্ষ সম্মেলন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
স্টারমারের উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই অ্যান্ডি বার্নহাম বলেছিলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়ে তিনি আরও সাহসী হতে চান। আগামী মাসে বার্নহাম একটি গুরুত্বপূর্ণ ইইউ-যুক্তরাজ্য শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন, যেখানে খাদ্যমান, জ্বালানি ও তরুণদের চলাচল নিয়ে নতুন চুক্তি প্রধান আলোচ্য হবে।
এই সপ্তাহে প্যারিসে ইউরোপীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা সচিব ওয়েস স্ট্রিটিং বলেছেন, রুশ শত্রুতার মুখে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থনে তাঁরা ঐক্যবদ্ধ ও অনড়।
স্টারমার প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তায় সর্ব-ইউরোপীয় সহযোগিতা ও সমন্বয় গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি অভিন্ন বাজারের মতোই একটি অভিন্ন নিরাপত্তা কাঠামো প্রয়োজন। ইইউ এ লক্ষ্যে নিজেকে বদলাচ্ছে, তবে ইউরোপের প্রান্তসীমা তার প্রতিরক্ষার কেন্দ্রে থাকায় শুধু ইইউ দিয়ে তা সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ব্রিটেনকে এই প্রকল্পের কেন্দ্রে থাকতে হবে বলে স্টারমার বলেন। তাঁর যুক্তি, ব্রিটেন দুটি পারমাণবিক শক্তির একটি, ন্যাটোর শীর্ষস্থানীয় সদস্য, দেশটির একটি কার্যকর পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধবিমান কর্মসূচি রয়েছে এবং ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইউরোপীয় মিত্রদের পাশে কাজ করার অঙ্গীকার দেশটি করেছে।
আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য ইউক্রেনের পাশে ইচ্ছুকদের জোটে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন এবং আশা প্রকাশ করেন, এই জরুরি ও অভিন্ন নিরাপত্তা প্রকল্পের মাধ্যমে বন্ধু ও মিত্রদের সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।




