…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › শিক্ষা › খবর
শিক্ষা

এইচএসসিতে প্রায় অর্ধেক ফেল: ইংরেজি ও আইসিটিতে সবচেয়ে বেশি, ১০০ জনের বেশি পরীক্ষক চিহ্নিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
এইচএসসিতে প্রায় অর্ধেক ফেল: ইংরেজি ও আইসিটিতে সবচেয়ে বেশি, ১০০ জনের বেশি পরীক্ষক চিহ্নিত
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাস করেছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ পরীক্ষার্থী—অর্থাৎ অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক পরীক্ষার্থীই এবার অকৃতকার্য হয়েছে। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ছয় লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন, আর ফেল করেছেন পাঁচ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন।

ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২২ বছরের মধ্যে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার সবচেয়ে কম। জিপিএ-ফাইভ পাওয়ার হারও কমেছে—এবার জিপিএ-ফাইভ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন। ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৫৭ দশমিক ১২ শতাংশ; এবার তা আরও কমে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে নেমেছে।

বিষয়ভিত্তিক ফলে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি অকৃতকার্য হয়েছেন ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে। শনিবার ফল প্রকাশের সময় জানানো হয়েছে, ইংরেজিতে ফেল করেছেন দুই লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন। এর পরেই আইসিটি—এই বিষয়ে ফেল করেছে এক লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৩ জন।

শনিবার সকালে সচিবালয়ে ফলাফল ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ফলাফল সন্তোষজনক হয়নি, তবে খাতা দেখায় স্বচ্ছতার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন, “এ বছর পাসের হার ও জিপিএ ফাইভ কিছুটা কমেছে। এটি কোনো একটি বিষয়ের ঘাটতির কারণে হয়নি। বরং সামগ্রিক শিখন পদ্ধতি, পাঠ্যবই ও শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের যে ঘাটতি রয়েছে, তা পুনর্মূল্যায়ন করে দূর করতে হবে।”

ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, এবারের পরীক্ষায় খাতা মূল্যায়ন শতভাগ নির্মোহভাবে করা হয়েছে। জিপিএ ফাইভ কিংবা পাসের হার বৃদ্ধির যে একটা কৃত্রিম সংস্কৃতি ছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে এসে মেধার মূল্যায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।

তবে সরকারের এই ব্যাখ্যার সঙ্গে ভিন্নমত রয়েছে শিক্ষাবিদদের। তাঁরা বলছেন, এবারের পরীক্ষার প্রশ্ন প্রণয়ন কিংবা খাতা মূল্যায়নে সংকট ছিল বলেই এমন ফল বিপর্যয় হয়েছে।

আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান বলেছেন, “নামকাওয়াস্তে মূল্যায়ন দিয়ে শিক্ষার্থীকে সন্তুষ্ট রাখার যে প্রবণতা ছিল সেটি থেকে বেরিয়ে এসেছে বর্তমান সরকার। আমরা পরীক্ষকদের অতিরিক্ত নম্বর দিতে না করেছি। এবার তাদের বলা হয়েছে—শিক্ষার্থীরা যেটা পাওয়ার কথা সেটাই যেন পায়।” সারা বছর ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম কিংবা শিখন পদ্ধতিতে কোনো ত্রুটি থাকতে পারে, যেগুলো সামগ্রিকভাবে ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

অধ্যাপক আখতারুজ্জামান আরও জানিয়েছেন, যেসব পরীক্ষক এবারের এইচএসসির খাতা দেখেছিলেন, তাঁদের নম্বরপত্র দেখে কিছু অস্বাভাবিক চিত্র উঠে এসেছে। তিনি বলেছেন, “ইতোমধ্যে আমরা ১০০ জনেরও বেশি পরীক্ষককে চিহ্নিত করে রেখেছি। যে পরিমাণ নম্বরের পার্থক্য থাকলে একজন শিক্ষককে শাস্তির আওতায় আনা যায় সেটি নিয়ে আমরা কাজ করছি।” তবে সেই পরীক্ষক কারা কিংবা তাঁদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি খোলাসা করে কিছু বলেননি।

ইংরেজি ও আইসিটিতে বেশি ফেলের কারণ ব্যাখ্যা করে অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেছেন, “প্রশ্নপত্র গতানুগতিকই ছিল। ইংরেজিতে এমনিতেই ফেল করার প্রবণতা বেশি থাকে।” আইসিটি প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, সব প্রতিষ্ঠানে আইসিটির শিক্ষক ওভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি, এই বিষয়ের শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে, অন্য বিষয়ের শিক্ষকেরা আইসিটি পড়ান—যে কারণে শিখন ঘাটতি আছে। পরীক্ষার্থীরা সিলেবাস সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেছেন, “আমাদের দেশে ভালো ইংরেজি শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে। অন্য সাবজেক্টের টিচাররা ইংরেজি পড়ান কিংবা আইসিটি পড়ান। যে কারণে এই দুই সাবজেক্টে ফলাফল বিপর্যয় বেশি হয়েছে।” আইসিটিতে বেশি ফেলের আরেকটি কারণ হিসেবে তিনি বৈষম্যের কথা বলেছেন—ঢাকার বাইরে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আইসিটি ল্যাব নেই, আবার গ্রামের বা নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানেরা আইসিটির জন্য ডিভাইস বা কম্পিউটার পায় না।

এবারের পরীক্ষায় দেশের ২৯৩টি প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। আর শতভাগ পাস করেছে মাত্র ১৩৯টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

বোর্ডভিত্তিক ফলে পাস ও জিপিএ-ফাইভে সবচেয়ে এগিয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড—এই বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ, জিপিএ-ফাইভ পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭১৪ জন। এর পর মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ০৭ শতাংশ, জিপিএ-ফাইভ ৩ হাজার ২৫০ জন। অন্য বোর্ডগুলোর পাসের হার—চট্টগ্রামে ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৫১ দশমিক ৪৪, সিলেটে ৫০ দশমিক ৯০, কারিগরিতে ৪৯ দশমিক ৪৩, কুমিল্লায় ৪৮ দশমিক ০৪, দিনাজপুরে ৪৫ দশমিক ৯৮, রাজশাহীতে ৪৫ দশমিক ০৬, যশোরে ৪৪ দশমিক ৯২ এবং সবচেয়ে পিছিয়ে বরিশালে ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ—এই বোর্ডে জিপিএ-ফাইভ পেয়েছেন মাত্র ৯৫০ জন।

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা গত ২ জুলাই শুরু হয়ে ৮ আগস্ট শেষ হয়। বন্যার কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা পেছানো হয়েছিল। এবার ১১টি বোর্ডে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ছিলেন ছয় লাখ সাত হাজার ৬৪৯ জন এবং ছাত্রী ছয় লাখ ৩৩ হাজার ১৪৯ জন। অধ্যাপক আখতারুজ্জামান জানিয়েছেন, রাজধানী ঢাকা বাদে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার অনেক কম থাকে—যারা শুধু ফরম পূরণ করে পরীক্ষা দেয়, তাদের পাসের সম্ভাবনাও কমে যায়। ফল বিপর্যয়ের পেছনের কারণগুলো খুঁজছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও।

শিক্ষা বিভাগের আরও খবর

শিক্ষা

নীলফামারীর ১৪ প্রতিষ্ঠানের সবাই ফেল: ১৩৯ পরীক্ষার্থীর একজনও পাস করেনি এইচএসসিতে

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় নীলফামারী জেলার ১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এর পাশাপাশি মাদরা…

ময়মনসিংহে এইচএসসির ফল ঘোষণার দিনেও ফাঁকা কলেজ ক্যাম্পাস, ঘরে বসেই ফল জানলেন শিক্ষার্থীরা
শিক্ষা

ময়মনসিংহে এইচএসসির ফল ঘোষণার দিনেও ফাঁকা কলেজ ক্যাম্পাস, ঘরে বসেই ফল জানলেন শিক্ষার্থীরা

সারা দেশের মতো ময়মনসিংহেও শনিবার (৩১ অক্টোবর) নির্ধারিত সময়ে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। তবে ফল প্রকাশের দিনেও নগরীর কলেজ ক্যা…

সিরাজগঞ্জে সাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থীই ফেল, কারণ দর্শানোর নোটিশ দেবে প্রশাসন
শিক্ষা

সিরাজগঞ্জে সাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থীই ফেল, কারণ দর্শানোর নোটিশ দেবে প্রশাসন

২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সিরাজগঞ্জ জেলার সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। ফলাফল বিশ্লেষণে এ চিত…

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে আট শিক্ষকের কলেজে একমাত্র পরীক্ষার্থীও ফেল, ২৪ বছরেও হয়নি পাকা ভবন
শিক্ষা

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে আট শিক্ষকের কলেজে একমাত্র পরীক্ষার্থীও ফেল, ২৪ বছরেও হয়নি পাকা ভবন

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মির্জাগঞ্জ মজিদবাড়িয়া কলেজ থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন মাত্র একজন শিক্ষার্থী। ফল প্রকাশের পর দেখা গে…