রাজবাড়ীতে দুই কলেজের একজন পরীক্ষার্থীও পাস করেনি, জেলায় সম্মিলিত পাসের হার ৪১.৪৩ শতাংশ
রাজবাড়ীতে ২০২৬ সালের এইচএসসি, আলিম ও এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া প্রতিষ্ঠান দুটি পাংশা ও গোয়ালন্দ উপজেলায় অবস্থিত এবং দুটিই নন-এমপিওভুক্ত। জেলা শিক্ষা অফিসের প্রকাশিত ফলাফল পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, জেলার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠান দুটি হলো পাংশা উপজেলার কাচারীপাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং গোয়ালন্দ উপজেলার ফকির আব্দুল জব্বার কলেজ। কাচারীপাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে তিনজন এবং ফকির আব্দুল জব্বার কলেজ থেকে চারজন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
এ ছাড়া রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজে এইচএসসি পরীক্ষায় ১৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র একজন। প্রতিষ্ঠানটির কলেজ শাখায় শিক্ষকের সংখ্যা ১৩ জন।
অন্যদিকে শতভাগ পাসের কৃতিত্ব অর্জন করেছে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ভাকলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে একজন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে। এ প্রতিষ্ঠানটিও নন-এমপিওভুক্ত।
জেলা শিক্ষা অফিসের ফলাফল সংক্রান্ত সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, এ বছর জেলায় এইচএসসি, আলিম ও এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় মোট ৮ হাজার ৫৩৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩ হাজার ৫১৯ জন। তিনটি পরীক্ষায় সম্মিলিত পাসের হার ৪১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭২ জন।
উপজেলাভিত্তিক এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, রাজবাড়ী সদরে ২ হাজার ৮০২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১ হাজার ২৭১ জন। বালিয়াকান্দিতে ১ হাজার ২০৪ জনের মধ্যে ৪৯৬ জন, পাংশায় ১ হাজার ৮২৩ জনের মধ্যে ৭৭৭ জন, গোয়ালন্দে ৬৬২ জনের মধ্যে ২১৪ জন এবং কালুখালীতে ৩৯৬ জনের মধ্যে ১১০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে।
এ ছাড়া আলিম পরীক্ষায় জেলায় ৫৩৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১৯২ জন। এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ১ হাজার ৮৪ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫১৯ জন।
জেলার সামগ্রিক ফলাফল ও শিক্ষার মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে রাজবাড়ী জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল মজিদ বলেন, ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠদান করতে হবে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী করার পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সন্তানদের লেখাপড়ার বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে। প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের শ্রেণি কার্যক্রম তদারকি ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামীতে জেলার ফলাফলের আরও উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।




