এইচএসসির ফল বিপর্যয়: খুলনার ছয় প্রতিষ্ঠান ও সিরাজগঞ্জের পাঁচ মাদরাসায় পাস শূন্য, ৭২ শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য
শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয়ের চিত্র উঠে এসেছে দুই জেলায়। খুলনার ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি; একই দিন সিরাজগঞ্জের পাঁচটি মাদরাসা থেকেও পাসের সংখ্যা শূন্য—সেখানকার ৭২ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন।
খুলনায় যেসব প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থী পাস করেনি, সেগুলো হলো খুলনা মডেল মহিলা কলেজ, খুলনা ইনডিপেনডেন্ট আইডিয়াল কলেজ, খুলনার কপিলমুনি সহচারী বিদ্যামন্দির, কয়রা শাকবাড়িয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রূপসা উপজেলার কমরেড রতন সেন কলেজিয়েট গার্লস কলেজ এবং খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস স্কুল অ্যান্ড কলেজ। শনিবার প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে এই চিত্র পাওয়া গেছে।
যশোর বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন বলেছেন, এ বছরও শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। প্রয়োজনে এসব প্রতিষ্ঠানের অধিভুক্তি নবায়ন বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
অন্যদিকে সিরাজগঞ্জে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান আলিম পরীক্ষায় জেলার পাঁচটি মাদরাসার কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৭২ জন শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান কার্যক্রম ও শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শতভাগ অকৃতকার্য মাদরাসাগুলো হলো সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শ্যামপুর কাজী ইসমাইল হোসেন আলিম মাদ্রাসা, রায়গঞ্জ উপজেলার আমছারা ইসলামিয়া দারুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসা ও তেলিজানা আলিম মাদ্রাসা, তাড়াশ উপজেলার দোবিলা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা এবং উল্লাপাড়া উপজেলার চন্দ্রগাতী আলিম মাদরাসা।
বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, শ্যামপুর কাজী ইসমাইল হোসেন আলিম মাদ্রাসা থেকে আটজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। রায়গঞ্জের আমছারা ইসলামিয়া দারুল উলুম ফাজিল মাদরাসার ২১ জন এবং তেলিজানা আলিম মাদ্রাসার ১৫ জন পরীক্ষার্থীর কেউ পাস করতে পারেননি। তাড়াশের দোবিলা ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার ১৪ জন এবং উল্লাপাড়ার চন্দ্রগাতী আলিম মাদরাসার ১৪ জন পরীক্ষার্থীও অকৃতকার্য হয়েছেন। অর্থাৎ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ৭২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাসের সংখ্যা শূন্য; সবচেয়ে বেশি ২১ জন পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন রায়গঞ্জের আমছারা মাদরাসায়।
ফলাফল বিপর্যয়ের পেছনে শিক্ষকদের পাঠদান কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উল্লাপাড়া উপজেলার চন্দ্রগাতী আলিম মাদরাসা সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা আনিসুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষকেরা নিয়মিত ক্লাস নেন না।’ পাঠদানে এমন অনিয়মের কারণেই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা শতভাগ অকৃতকার্য হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে পাঁচটি মাদরাসার প্রধানদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ সম্পর্কে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রোজিনা আক্তার বলেছেন, ‘শতভাগ অকৃতকার্য মাদরাসাগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও মাদরাসাগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।


