নীলফামারীর ১৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এইচএসসিতে পাস করেনি একজনও, অকৃতকার্য সব ১৩৯ পরীক্ষার্থী
নীলফামারীতে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৩৯ জন শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে এই চিত্র উঠে আসে। শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১২টি কলেজ ও দুটি আলিম মাদ্রাসা রয়েছে।
জেলার সদর উপজেলার আদর্শ কলেজে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ৪০ জন শিক্ষার্থী, তবে তাঁদের কেউই পাস করতে পারেননি। প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন ৩৬ জন।
কলেজগুলোর মধ্যে নীলফামারী সদরের পঞ্চপুকুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৬ জন, তরনিবাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২ জন, লক্ষ্মীচাপ সৃজনশীল কলেজে ১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কেউ পাস করেননি। কিশোরগঞ্জ উপজেলার ভেরভেরি মঝাপাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৫১ জন ও নয়নখাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৩ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন।
ডোমার উপজেলার জামিরবাড়ি মহিলা কলেজে ৫ জন, বাগডোকড়া নিমোজখানা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে ৩ জন, জলঢাকা উপজেলার সমিরুদ্দিন আদর্শ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে ২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করতে পারেননি। ডিমলা উপজেলার আদাবাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২ জন, জেলা পরিষদ স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১ জন এবং গয়াখড়িবাড়ি মহিলা কলেজে ১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই ফেল করেছেন।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সৈয়দপুরের পোড়াহাট ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় ৭ জন এবং ডোমারের পাঙ্গা চৌপথী আব্দুল মজিদ আলিম মাদ্রাসায় ১৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন।
শিক্ষকেরা জানান, এমপিওভুক্ত না হওয়া, অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার অভাব, শিক্ষকসংকট এবং মানসম্মত পাঠদান উপকরণের ঘাটতি শিক্ষার পরিবেশকে ব্যাহত করছে। অনেক অভিজ্ঞ শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে বিনা বেতনে শিক্ষকতা করছেন, এতে তাঁদের পক্ষে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
নীলফামারী সদর উপজেলার আদর্শ কলেজের প্রভাষক সারিউল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয়ে আসছে। শিক্ষার্থীরা ভালো লেখাপড়া করছেন। এবার কেন এমন হলো বুঝতে পারছি না। এর আগে কখনো এমন ফলাফল হয়নি। এই প্রতিষ্ঠানে ৩৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছে। তাদের বিল-বেতনও চালু হয়নি। তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।’
এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


