পঞ্চগড়ের ৬৬৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৯৫টিতেই নেই নিয়মিত প্রধান শিক্ষক

পঞ্চগড় জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রায় ৬০ শতাংশ চলছে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক ছাড়াই। জেলার পাঁচ উপজেলায় মোট ৬৬৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৯৫টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নিয়মিত প্রধান শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২৬৮টি বিদ্যালয়ে। শূন্য পদ থাকা ৩৯৫টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৬০টিতে সহকারী শিক্ষকেরা চলতি দায়িত্ব পালন করছেন, আর বাকি ২৩৫টি বিদ্যালয় চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে।
উপজেলাভিত্তিক হিসাবে আটোয়ারীতে ১১২টি বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য ৭১টিতে এবং তেঁতুলিয়ায় ৭৪টি বিদ্যালয়ের মধ্যে শূন্য ৪৯টিতে। দেবীগঞ্জে ১৪২টি বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষক নেই ১০৪টিতে, পঞ্চগড় সদরে ১৬৪টি বিদ্যালয়ের মধ্যে শূন্য পদ ৬৬টিতে এবং বোদা উপজেলায় ১৭১টি বিদ্যালয়ের মধ্যে শূন্য রয়েছে ১০৫টিতে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের রাজমহল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জেলা শহর থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে। এই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রম সামলাচ্ছেন একজন সহকারী শিক্ষক, যিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
একই অবস্থা হাড়িভাসা ইউনিয়নের মোহনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের দাপ্তরিক কাগজপত্র তৈরি, প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় কাজে শিক্ষা অফিসে যাতায়াত করতে হচ্ছে, ফলে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের জন্য পর্যাপ্ত সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
রাজমহল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কেরামত আলী বলেন, পদোন্নতি না দিয়ে তাঁকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, অথচ বেতন গ্রেড রয়ে গেছে সহকারী শিক্ষকেরই। যাঁদের চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাঁদের দেড় হাজার টাকা করে আলাদা ভাতা দেওয়া হলেও তিনি সেই ভাতাও পাচ্ছেন না বলে তিনি জানান। তিনি দ্রুত পদোন্নতি দিয়ে এই সংকটের নিরসন চান।
পঞ্চগড় মকবুলার রহমান সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাজুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের মূল ভিত্তি, এই পর্যায়ে পাঠদানে ঘাটতি তৈরি হলে পরবর্তী শিক্ষাজীবনেও তার প্রভাব পড়তে পারে। প্রতিষ্ঠানপ্রধানের পদ শূন্য থাকলে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইয়াকুব আলী বলেন, ২০১০ সালের পর থেকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি থমকে আছে এবং ২০১৮ সালে কিছু বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। মূলত মামলা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে পদোন্নতি হচ্ছিল না, তবে ইতোমধ্যে সেই জটিলতা নিরসন হয়েছে এবং পদোন্নতি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ইয়াকুব আলী আরও বলেন, পদোন্নতি হয়ে গেলে কোনো বিদ্যালয়ে আর প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকবে না।




