বগুড়ায় পাঁচ প্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ: কাহালুর কলেজে একমাত্র পরীক্ষার্থীও অকৃতকার্য, টিকিয়ে রাখতে শিক্ষকদের নিজের টাকায় ভর্তি

চলতি এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে বগুড়া জেলার পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। এর মধ্যে কাহালু উপজেলার আল্লামের তাকিয়া উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ থেকে এবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন মাত্র একজন শিক্ষার্থী — মানবিক বিভাগের সেই একমাত্র পরীক্ষার্থীও অকৃতকার্য হয়েছেন।
প্রতিষ্ঠানটিতে গত দুই বছর ধরে এমন ফলবিপর্যয় চলছে। সাবেক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান মণ্ডল জানান, ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট তিনি অবসরে যান; তাঁর সময়ে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি ছিল এবং পরীক্ষার ফলাফলও ভালো হতো, শিক্ষার্থীরা বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ভালো ফল করতেন।
সাবেক অধ্যক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরও প্রতিষ্ঠানটি থেকে আনুমানিক পাঁচজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, তবে তাঁদের কেউই পাস করেননি। এবারও মানবিক বিভাগ থেকে একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন বলে তিনি জানেন।
তবে কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ টি এম ফেরদৌস আলম পলাশ বলছেন, এবার এইচএসসি পরীক্ষার জন্য পাঁচজন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিলেন; তাঁদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন মাত্র একজন। বাকি চারজন পরীক্ষায় অংশই নেননি। অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী সব বিষয়ে পরীক্ষা দিলেও পাস করতে পারেননি।
বর্তমান অধ্যক্ষ জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে এখন শিক্ষার্থী ভর্তি হতে চান না। এসএসসি পাসের পর অনেকে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন, আবার মেয়েদের বিয়ে হয়ে যায়। দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করে প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানো হয়; অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকেরা নিজেদের টাকায় তাদের ভর্তি, ফরম পূরণ ও বইপুস্তকের ব্যবস্থা করেন — মূলত প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখতেই এসব উদ্যোগ নেন তাঁরা।
টি এম ফেরদৌস আলম পলাশ আরও বলেন, বগুড়ার শিক্ষার্থীরা এখন তুলনামূলক ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়তে আগ্রহী, ফলে এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ ১০ থেকে ১২ বছর ধরে কর্মরত শিক্ষকেরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিক্ষার্থী সংগ্রহ করে প্রতিষ্ঠানটি চালিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।
শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে নিয়মিত পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান তিনি। শিক্ষার্থীরা কয়েক দিন ক্লাস করার পর আর আসেন না; একপর্যায়ে শিক্ষকদের উপস্থিতিও কমে যায়। পরে তিনি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ডেকে এনে ক্লাস পরিচালনার চেষ্টা করেন।
প্রতিষ্ঠানটিতে সাধারণ শাখার পাশাপাশি বাণিজ্য শাখারও অনুমোদন রয়েছে। মানবিক বিভাগে চার থেকে পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন এবং কলেজ শাখাসহ পুরো প্রতিষ্ঠানে মোট ১২ জন শিক্ষক ও কর্মচারী রয়েছেন।




