লক্ষ্মীপুরে মোটরসাইকেল ফেরত চাইতে গিয়ে মারধরে ব্যবসায়ী নিহত, ছেলেও আহত
লক্ষ্মীপুরে ১০ মিনিটের জন্য নেওয়া মোটরসাইকেল ১৩ দিন পরও ফেরত না দেওয়ায় ফেরত চাইতে গেলে হামলা ও মারধরের ঘটনায় হোসেন মিয়া (৫০) নামে এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ সময় তার ছেলে পল্লী চিকিৎসক সাইফুল ইসলামকেও মারধর করা হয়।
রোববার (১ নভেম্বর) রাতে সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের কাজিরদিঘীরপাড় বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হোসেন মিয়া কাজিরদিঘীরপাড় এলাকার সুলতান আহমেদ ভূইয়ার ছেলে ও স্থানীয় বাজারের টেইলার্স ব্যবসায়ী। তিনি আগ থেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। একই এলাকার শাকিল হোসেন ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছেন আহত সাইফুল ইসলাম।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ১০ মিনিটের জন্য সাইফুলের মোটরসাইকেল নিয়ে ১৩ দিন পার হলেও অভিযুক্ত শাকিল তা ফেরত দিচ্ছিলেন না। মোটরসাইকেল নিয়ে দুই পক্ষের লোকজন বাজারে একটি দোকানে বৈঠকে বসার কথা ছিল। কিন্তু শাকিল বৈঠকে বসতে রাজি না হলে সাইফুল ও তার বাবা হোসেন মিয়ার সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শাকিল ও বিপ্লব নামে আরেকজন মিলে হোসেন মিয়াকে মারধর করেন। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। ঘটনার সময় মারধরে সাইফুলও আহত হন।
আহত সাইফুল ইসলাম বলেন, ১৯ অক্টোবর ১০ মিনিটের কথা বলে শাকিল তার কাছ থেকে গাড়ি নিয়ে যান। এরপর ফেরত না দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার কথা বলেন তিনি। শনিবার (৩১ অক্টোবর) গাড়ি ফেরত দেওয়ার কথা বলে তাদের বসতে ডাকা হয়। পরে তিনি, তার বাবা ও মেজো ভাই গাড়ি আনতে যান। তখন শাকিল তার বাবার বুকে ও নাকে আঘাত করেন। এতে তার বাবার মৃত্যু হয়। মারধরে তিনিও আহত হয়েছেন। সাইফুল বলেন, আমার বাবার হত্যার বিচার চাই।
সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার জহুরুল ইসলাম রনি বলেন, মৃত অবস্থায় হোসেন নামে লোকটিকে হাসপাতালে আনা হয়। ময়নাতদন্ত করার পর চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে। অভিযুক্তদের আটক করতে অভিযান চলছে। মামলার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।



