শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সদরের কাছে স্থাপনের দাবিতে মশাল মিছিল ও মহাসড়ক অবরোধ
শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় জেলা সদর-সংলগ্ন পূর্বনির্ধারিত স্থানে স্থাপনের দাবিতে মশাল মিছিল, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করেছেন জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাঁদের দাবি, জেলার এক প্রান্তে নয়, সদর বা তার আশপাশের এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করতে হবে।
রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কের কোটাপাড়া ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় ‘শরীয়তপুর জেলার সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় প্রায় ৩০ মিনিট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। এতে সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
কর্মসূচিতে শরীয়তপুর সদর, জাজিরা, নড়িয়াসহ বিভিন্ন উপজেলার সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অংশ নেন। সন্ধ্যায় মশাল মিছিল বের করার পর তাঁরা মানববন্ধন করেন। কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন নশাসন ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মাসুম খান, ইউপি সদস্য বিল্লাল শেখ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান ডালিম, কামরুল ইসলাম মালতসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ২০২৩ সালে শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইন পাসের পর সম্ভাব্য স্থান হিসেবে সদর উপজেলার ডোমসার ও নড়িয়া উপজেলার নশাসন এলাকাকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি উপাচার্য নিয়োগের পর ওই স্থানগুলো বাদ দিয়ে ডামুড্যা উপজেলার একটি ইউনিয়নে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব সামনে এসেছে। এতে জেলার মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
বক্তারা বলেন, জেলা শহরের কাছাকাছি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ক্ষেত্রে জমির উচ্চমূল্যের বিষয়টি সামনে আনা হচ্ছে। অথচ জমির দাম যদি প্রধান বাধা হয়ে থাকে, তাহলে জেলার বৃহত্তর স্বার্থে স্থানীয় বাসিন্দারা বিনামূল্যে জমি দিতে প্রস্তুত। প্রয়োজনে নিজেদের জমি দান করতেও রাজি তাঁরা।
তাঁদের দাবি, ডামুড্যা উপজেলার প্রস্তাবিত স্থানটি জেলার এক প্রান্তে হওয়ায় সদর, জাজিরা ও নড়িয়াসহ অন্যান্য উপজেলার শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হবে। পাশাপাশি আবাসন, চিকিৎসা, টিউশন ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বক্তারা আরও বলেন, শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কোনো নির্দিষ্ট উপজেলা বা এলাকার সম্পদ নয়, এটি পুরো জেলার মানুষের সম্পদ। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারণে কোনো বিশেষ এলাকার স্বার্থকে প্রাধান্য না দিয়ে জেলার সামগ্রিক যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের সুবিধা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিবেচনায় নিতে হবে। এসব দিক বিবেচনায় জেলা সদর বা আশপাশের এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করাই যৌক্তিক।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, জেলার এক প্রান্তে বিশ্ববিদ্যালয় হলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, আবাসন ও প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা কঠিন হবে — এই আশঙ্কা থেকেই সদর-সংলগ্ন স্থানের দাবিতে তাঁরা পথে নেমেছেন।
মানববন্ধন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে জেলা সদর-সংলগ্ন পূর্বনির্ধারিত স্থানে নির্মাণকাজের উদ্যোগ নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। দাবি উপেক্ষা করা হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।



