চীন নীতি নিয়ে যুক্তরাজ্য সরকার ‘চলতে চলতে বানাচ্ছে’, সতর্ক করলেন ব্রিটিশ এমপিরা

যুক্তরাজ্য চীন বিষয়ে তার নীতি ‘চলতে চলতে বানিয়ে নিচ্ছে’ বলে সতর্ক করেছে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের একটি কমিটি। কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুসংগত কৌশলের অভাবে ব্রিটিশ ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকিও অমীমাংসিত থেকে যাচ্ছে।
হাউস অব কমন্সের ব্যবসা, উদ্ভাবন, বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিষয়ক সিলেক্ট কমিটির তদন্তে বলা হয়েছে, ২০২৪ সাল থেকে চীনের বিষয়ে সুসংগত কৌশল তৈরি করতে লেবার সরকারের ব্যর্থতা যুক্তরাজ্যের জন্য দুই দিক থেকেই সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
কমিটির চেয়ার ও লেবার এমপি লিয়াম বায়ার্ন বলেছেন, যুক্তরাজ্যের চীন নীতি তার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ব্যবসাকেও বিপদে ফেলছে, কারণ বড় উৎপাদন চুক্তি থেকে ছিটকে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার ব্রিটিশ ব্যবসাগুলোকে বাণিজ্যিক সুযোগও দিতে পারছে না, আবার চীনের সঙ্গে সম্পর্কে ক্রমবর্ধমান ও অপরিমাপযোগ্য ঝুঁকিও নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘২০২৪ সালে নতুন সরকার চীনের বিষয়ে কৌশলগত, দীর্ঘমেয়াদি ও ধারাবাহিক ব্রিটিশ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তা তারা রাখতে পারেনি। ব্রিটেনকে নিজেই চীনের সঙ্গে সম্পর্কের রূপ দিতে হবে, নইলে ওয়াশিংটন বা বেইজিং সেই রূপ দিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি থাকবে।’
গত এক দশকে চীনের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পৃক্ততা সীমিত ছিল। ২০১৮ সালে থেরেসা মে-র পর গত জানুয়ারিতে কিয়ার স্টারমারই প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর করেন। ওই সফরকে ‘কূটনৈতিক বরফযুগ’ শেষ করার চেষ্টা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।
তবে এমপিরা প্রতিবেদনে বেইজিংয়ের সঙ্গে বাণিজ্যের সুবিধার কথাও স্বীকার করেছেন। তারা বলেছেন, চীনে ব্রিটিশ ব্যবসাগুলোর লাভজনক কার্যক্রম রয়েছে, তারা বাড়তে চায় এবং দেশটির ‘বিশ্বমানের’ উদ্ভাবন থেকে শিখতে চায়। একই সঙ্গে পরিবারের আয় চাপে থাকার সময়ে বৈদ্যুতিক গাড়ির মতো সস্তা আমদানি থেকে ভোক্তারাও উপকৃত হন।
বায়ার্ন সরকারের খণ্ড খণ্ড পদ্ধতির কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, ‘সরকার চীন নীতি চলতে চলতে বানালে ব্রিটেনের ব্যবসাগুলো ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করতে পারে না। মন্ত্রীরা স্পষ্টতা ও ধারাবাহিকতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বদলে আমরা পেয়েছি হাতছাড়া সুযোগ, অব্যবস্থাপিত ঝুঁকি আর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ফেলে রাখা সিদ্ধান্ত।’
কমিটি উদাহরণ হিসেবে গত মার্চে অনির্দিষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বলে স্কটল্যান্ডে চীনা প্রতিষ্ঠান মিং ইয়াংয়ের ১৫০ কোটি পাউন্ডের বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত আটকে দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছে; ওই প্রকল্প নিয়ে বছরের পর বছর আলোচনা চলছিল।
প্রতিবেদনে ‘খেলার স্পষ্ট নতুন নিয়ম’ তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে এবং সুপারিশ করা হয়েছে, চীনা বিনিয়োগের জন্য নিষিদ্ধ শিল্পখাতকে ‘রেড জোন’ ও বাণিজ্য উৎসাহিত করার খাতকে ‘গ্রিন জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। অন্যায্য প্রতিযোগিতা মোকাবিলায় বৈদ্যুতিক গাড়িতে শুল্কসহ নতুন বাণিজ্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার প্রস্তুতি নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।




