কাঁঠালিয়ার বানাই গ্রামে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি, স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে শঙ্কা এলাকাবাসীর

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার বানাই গ্রামে পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে কাঠ পুড়িয়ে বাণিজ্যিকভাবে কয়লা তৈরি করা হচ্ছে। চেঁচরীরামপুর ইউনিয়নের তফসেরের খেয়া ঘাটের পশ্চিম পাড় থেকে উত্তর দিকে বাকার খালের পাশে এ কার্যক্রম চলছে।
স্থানীয়রা দাবি করছেন, ওই গ্রামে প্রায় ৫০টি চুল্লি স্থাপন করে নিয়মিত কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। তবে অভিযুক্ত চুল্লি মালিক রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, সেখানে ২৩টি চুল্লি রয়েছে এবং এগুলোর মালিকানায় রয়েছেন তিনজন।
কাঁঠালিয়া উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাপস কুমার তালুকদার জানিয়েছেন, কাঠ পুড়িয়ে কয়লা উৎপাদনের ফলে ওই এলাকার জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এতে শিশু, বৃদ্ধ এবং বিশেষ করে গর্ভবতী নারীরা হাঁপানি, কাশি ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। চুল্লি থেকে নির্গত অতিরিক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং কালো ধোঁয়া পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে।
এসব চুল্লির কাঠের চাহিদা মেটাতে স্থানীয়ভাবে কাঠ চুরির প্রবণতা বাড়ছে। ছোট ছোট শিশুরা বাগান থেকে কাঠ কেটে এনে চুল্লির মালিকদের কাছে বিক্রি করায় তাদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধির আশঙ্কাও করছেন সচেতন মহল।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উৎপাদিত কয়লা শুধু স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই; পার্শ্ববর্তী জেলা পিরোজপুরের পাড়েরহাটের কামারদের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে। কামাররা সারা বছর এ কয়লা ব্যবহার করায় চক্রটি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের ঝালকাঠি জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আঞ্জুমান নেছা জানিয়েছেন, কাঁঠালিয়ায় কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির কোনো ধরনের পরিবেশগত অনুমোদন নেই। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ। দ্রুত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
কাঁঠালিয়ার ইউএনও মকবুল হোসেন বলেছেন, এ কার্যক্রম সম্পূর্ণ অবৈধ। পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে খুব দ্রুতই এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
এলাকার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।



