…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › প্রযুক্তি › খবর
প্রযুক্তি

এআই দিয়ে তৈরি ছবি, গান আর লেখার মালিক কে, কপিরাইট নিয়ে বাড়ছে জটিল প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
এআই দিয়ে তৈরি ছবি, গান আর লেখার মালিক কে, কপিরাইট নিয়ে বাড়ছে জটিল প্রশ্ন
ছবি: সংগৃহীত

সৃজনশীল কাজের মালিক কে—একটা সময় এই প্রশ্নের সরল উত্তর ছিল, যিনি তৈরি করেছেন, তিনি। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সৃজনশীল অনেক বিষয় উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ায় সেই উত্তর আর সহজ থাকছে না। এখন প্রম্পট আপনার, কিন্তু প্ল্যাটফর্ম কোনো বড় প্রতিষ্ঠানের। ফলে প্রম্পটদাতা তৈরি হওয়া সৃজনশীল সম্পদের মালিক কি না, তা নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

মানুষের সৃজনশীলতার জগতে এআইয়ের অনুপ্রবেশ নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি একগুচ্ছ জটিল প্রশ্ন তৈরি করেছে। যন্ত্রের তৈরি ছবির শিল্পী কে? এআই দিয়ে লেখা উপন্যাসের লেখক কে? কোনো গায়কের কণ্ঠ নকল করে গান তৈরি করলে সেই গানের অধিকার কার? আর এআইকে প্রশিক্ষণ দিতে লাখ লাখ মানুষের লেখা, ছবি ও গান ব্যবহার করা হলে তাঁদের অনুমতি নেওয়া হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।

ছবি তৈরির ক্ষেত্রে মিডজার্নি, ডাল-ই ও গুগলের ইমাজেন উল্লেখযোগ্য। লেখার ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি ও জেমিনি, আর সংগীত তৈরিতে সুনো ও উদিওর মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী কয়েকটি বাক্য বা প্রম্পট লিখে ছবিসহ বিভিন্ন সৃজনশীল জিনিস তৈরি বা সম্পাদনা করতে পারেন।

আগে শিল্পকর্ম তৈরিতে শিল্পীর দক্ষতা, সময়, অভিজ্ঞতা ও শ্রম ছিল মুখ্য; এখন একটি অংশের কাজ করে দিচ্ছে অ্যালগরিদম। ফলে প্রশ্ন উঠছে, যিনি শুধু নির্দেশনা দিয়েছেন, তিনি কি শিল্পী? নাকি যিনি এআই মডেল তৈরি করেছেন, তিনিই সৃষ্টির প্রকৃত মালিক?

কপিরাইট বা মেধাস্বত্বের প্রচলিত ধারণায় কোনো মৌলিক সাহিত্য, সংগীত, আলোকচিত্র কিংবা শিল্পকর্মের স্রষ্টা তার ওপর নির্দিষ্ট অধিকার ভোগ করেন। কিন্তু এআই দিয়ে তৈরি কাজের ক্ষেত্রে সৃষ্টির পেছনে মানুষের ভূমিকা কতটা, তা নির্ধারণ করা সব সময় সহজ নয়।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কপিরাইট অফিস ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, এআই দিয়ে তৈরি কোনো কাজের প্রকাশভঙ্গির গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলো নির্ধারণে মানুষের যথেষ্ট সৃজনশীল ভূমিকা থাকলেই শুধু সেগুলো কপিরাইট সুরক্ষা পেতে পারে। মাত্র একটি নির্দেশনা বা প্রম্পট লিখে এআইয়ের কাছ থেকে ছবি কিংবা লেখা তৈরি করিয়ে নিলেই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কপিরাইট পাওয়ার যোগ্য হবে না।

অন্যদিকে, কোনো মানুষ যদি এআইয়ের তৈরি ছবিকে নিজের সৃজনশীল সিদ্ধান্তে সম্পাদনা করেন, একাধিক উপাদান নতুনভাবে সাজান কিংবা নিজের মৌলিক শিল্পকর্মের সঙ্গে এআইয়ের তৈরি উপাদান যুক্ত করে নতুন কাজ তৈরি করেন, তাহলে সেই মানবিক অবদান কপিরাইট সুরক্ষার যোগ্য হতে পারে।

বাংলাদেশেও এআইয়ের তৈরি শিল্পকর্মের মালিকানা নিয়ে প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। দেশে বর্তমানে কার্যকর কপিরাইট আইন, ২০২৩-এর ১৫ ধারায় সাধারণভাবে বলা হয়েছে, কোনো কর্মের প্রণেতা তার কপিরাইটের প্রথম স্বত্বাধিকারী হবেন। আইনের ২ ধারায় প্রণেতার সংজ্ঞায় সাহিত্যকর্মের ক্ষেত্রে লেখক, সংগীতের ক্ষেত্রে রচয়িতা ও সুরকার, আলোকচিত্রের ক্ষেত্রে আলোকচিত্রী এবং তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক ডিজিটাল সৃজনশীল কাজের ক্ষেত্রে প্রণয়নকারী ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে।

তবে এআই সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো ছবি, গান বা সাহিত্যকর্ম তৈরি করলে তার কপিরাইট কার হবে, সে বিষয়ে আইনে আলাদা ও সুস্পষ্ট বিধান আছে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাই শুধু এআইয়ের নির্দেশদাতা, সফটওয়্যার নির্মাতা কিংবা প্ল্যাটফর্মের মালিককে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কপিরাইটের মালিক বলা যাবে না। নির্দিষ্ট ঘটনার ক্ষেত্রে মানুষের সৃজনশীল অবদান, চুক্তি এবং প্রযোজ্য আইনের ব্যাখ্যা বিবেচনা করতে হবে।

গুগলের টার্মস অব সার্ভিসে লেখা আছে, আপনার কনটেন্টের মালিকানা আপনার হাতেই থাকে। ফলে কোনো ব্যক্তি নিজের তৈরি ছবি, ভিডিও, সংগীত, গল্প, উপন্যাস বা অন্য কোনো সৃজনশীল কাজ গুগলের যেকোনো প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করলে সাধারণভাবে তার মালিকানা ওই স্রষ্টার কাছেই থাকে। তবে মালিকানা আর ব্যবহারের অনুমতি বা লাইসেন্স এক বিষয় নয়। গুগল ফটোসে ছবি আপলোড করলে সেবাটি পরিচালনা ও উন্নত করার জন্য গুগল সেটি সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের মতো নির্দিষ্ট কিছু ব্যবহারের অনুমতি পায়।

ইউটিউবের টার্মস অব সার্ভিসে বলা হয়েছে, ব্যবহারকারী তাঁর আপলোড করা কনটেন্টের মালিকানা ধরে রাখেন। তবে ইউটিউবকে একটি বিশ্বব্যাপী, নন-এক্সক্লুসিভ, রয়্যালটিমুক্ত, হস্তান্তরযোগ্য ও সাব-লাইসেন্সযোগ্য ব্যবহারের লাইসেন্স দিতে হয়। তবে এই লাইসেন্স অন্য কাউকে ভিডিওটি নিয়ে স্বাধীনভাবে বাণিজ্যিক ব্যবহারের অনুমতি দেয় না।

সাধারণভাবে মেটার যেকোনো প্ল্যাটফর্মে সৃজনশীল কিছু প্রকাশ করা মানে তার কপিরাইট মেটার হয়ে যাবে না, তা প্রকাশকারীরই থাকবে। তবে প্ল্যাটফর্মের শর্তাবলি ও প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি কনটেন্ট হোস্ট, প্রদর্শন কিংবা নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত কাজে ব্যবহারের লাইসেন্স পেতে পারে। সেই লাইসেন্স আর এআই প্রশিক্ষণের অনুমতি এক নয়।

এআইয়ের প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া নিয়ে চলছে বড় বিতর্ক। একটি ছবি তৈরির মডেলকে প্রশিক্ষণ দিতে লাখ লাখ ছবি বিশ্লেষণ করা হতে পারে। একইভাবে ভাষাভিত্তিক মডেলের প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হতে পারে বই, সংবাদপত্র, গবেষণাপত্র, ব্লগ ও অনলাইন আলোচনার বিপুল সংগ্রহ। কিন্তু এসব কনটেন্টের অনেকগুলোই কপিরাইট সুরক্ষিত। মূল স্রষ্টার অনুমতি ছাড়া প্রশিক্ষণের কাজে সেগুলো ব্যবহার করা যাবে কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক চলছে।

এআইয়ের তৈরি কাজের ধরনভেদে সমস্যাও আলাদা। এআই ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে মূল ছবির বৈশিষ্ট্য কতটা ব্যবহার করা হয়েছে এবং বাস্তব ব্যক্তির মুখ বা পরিচয় অনুমতি ছাড়া ব্যবহারে গোপনীয়তার প্রশ্ন ওঠে। এআই সংগীতে জীবিত শিল্পীর কণ্ঠ হুবহু নকল করলে তাঁর কণ্ঠস্বরের অধিকার ও বাণিজ্যিক স্বার্থের প্রশ্ন ওঠে, আর গানের কথা, সুর ও মূল রেকর্ডিংয়ের কপিরাইট আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হয়। এআই সাহিত্যে কোনো লেখকের স্বতন্ত্র বাক্য, চরিত্র বা প্রকাশভঙ্গি অননুমোদিতভাবে ব্যবহারে এবং এআই চিত্রকলায় বিখ্যাত শিল্পীর নির্দিষ্ট শিল্পকর্মের গুরুত্বপূর্ণ অংশ নকলে কপিরাইট লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি হয়।

এখানে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—কপিরাইট, ব্যক্তি স্বত্ব এবং কণ্ঠস্বর বা পরিচয়ের বাণিজ্যিক অধিকার এক জিনিস নয়। কোনো কাজ কপিরাইট লঙ্ঘন না করলেও বাস্তব মানুষের পরিচয় বা কণ্ঠস্বরের অননুমোদিত ব্যবহার অন্য আইনি সমস্যার জন্ম দিতে পারে।

প্রযুক্তি বিভাগের আরও খবর

প্রযুক্তি

সিঙ্গাপুরের প্রযুক্তি সহযোগিতায় ডাক ও লজিস্টিকস খাত আধুনিকায়নের উদ্যোগ

দেশের ডাক ও লজিস্টিকস খাতের আধুনিকায়ন, ডিজিটাল পেমেন্ট সম্প্রসারণ এবং সরকারি সেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বাড়াতে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে প্রয…

প্রযুক্তি

বিকাশ অ্যাপেই এখন পরিশোধ করা যাবে সব ট্রাফিক মামলার জরিমানা

এখন মাত্র কয়েক ট্যাপেই বিকাশ অ্যাপ থেকে তাৎক্ষণিক ট্রাফিক ফাইন পরিশোধ করা যাচ্ছে। কমিউনিটি ব্যাংক ও বিকাশের উদ্যোগে নতুন চালু হওয়া এই সেবার মাধ্যমে …

টিএমজিবির নতুন সভাপতি মাসুদ রুমী, সাধারণ সম্পাদক কুমার বিশ্বজিৎ রায়
প্রযুক্তি

টিএমজিবির নতুন সভাপতি মাসুদ রুমী, সাধারণ সম্পাদক কুমার বিশ্বজিৎ রায়

প্রযুক্তি সাংবাদিকদের সংগঠন টেকনোলজি মিডিয়া গিল্ড বাংলাদেশের (টিএমজিবি) ২০২৬-২৮ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মাসুদ রুমী। সা…

রাশিয়া ও ইউক্রেনের জরুরি সতর্কতা অ্যাপে সাইবার হামলা, ছড়ানো হয় ভুয়া সতর্কবার্তা
প্রযুক্তি

রাশিয়া ও ইউক্রেনের জরুরি সতর্কতা অ্যাপে সাইবার হামলা, ছড়ানো হয় ভুয়া সতর্কবার্তা

রাশিয়া ও ইউক্রেন—উভয় দেশেরই জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। দুই দেশের অ্যালার্ট অ্যাপ হ্যাক করে ভুয়া সতর্কবার্তা ছড়িয়ে দেওয়া …