ই-রিকশা বিধিমালায় ৯ দফা সংশোধনের দাবি সংগ্রাম পরিষদের, ১১ নভেম্বর ১৩ সিটি করপোরেশনে সমাবেশ

ব্যাটারিচালিত রিকশার কাঠামো পরিবর্তনে দুই বছর সময় দেওয়া, চালকদের লাইসেন্স চালু এবং নিবন্ধন ও নবায়ন ফি কমানোসহ সরকার প্রণীত ই-রিকশা বিধিমালা, ২০২৬ সংশোধনের দাবি জানিয়েছে রিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বিধিমালার বিভিন্ন অসংগতি তুলে ধরে ৯ দফা প্রস্তাবনা দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সদস্যসচিব ডা. মনীষা চক্রবর্তীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক খালেকুজ্জামান লিপন বলেন, ১৩ বছরের আন্দোলনের পর সরকার ব্যাটারিচালিত যানবাহনের জন্য বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এ সিদ্ধান্তকে তারা প্রাথমিকভাবে স্বাগত জানাচ্ছেন। তবে বিধিমালার কয়েকটি ধারা সংশোধন না হলে চালক ও মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে এবং সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ব্যাহত হতে পারে।
সংগঠনটির দাবি, বর্তমানে চলাচলরত ই-রিকশার কাঠামো পরিবর্তনের জন্য অন্তত দুই বছর সময় দিতে হবে। বিধিমালায় বুয়েট স্বীকৃত আদর্শ কাঠামো না থাকলে যানবাহন অবৈধ হিসেবে গণ্য করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা রাখা হয়নি। এতে বিদ্যমান যানবাহন উচ্ছেদের আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছে সংগঠনটি।
চালকদের লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআরটিএ) যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির মতে, শুধু পরিচিতি কার্ডের ব্যবস্থা করা হলে অনিয়ম ও সিন্ডিকেট তৈরির আশঙ্কা থাকবে। চালকের দক্ষতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৈধ লাইসেন্স দেওয়ার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
বিধিমালায় নির্ধারিত নিবন্ধন ও নবায়ন ফি নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে সংগ্রাম পরিষদ। তাদের দাবি, দুই আসনের ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি আট হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি চার হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চার আসনের ই-রিকশার নিবন্ধন ফি দশ হাজার টাকা এবং নবায়ন ফি পাঁচ হাজার টাকা। এসব ফি চালক ও মালিকদের সামর্থ্যের তুলনায় বেশি। অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে ফি পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
এ ছাড়া ই-রিকশার সংখ্যা নির্ধারণের ক্ষেত্রে চালক, মালিক ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা, মহাসড়কের পাশে তিন চাকার যানবাহনের জন্য পৃথক লেন চালু এবং কোন সড়কে ই-রিকশা চলতে পারবে, তা স্পষ্ট করার প্রস্তাব দিয়েছে তারা।
চার্জিং স্টেশনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা এবং পর্যায়ক্রমে বীমার আওতায় আনার বিধান নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে সংগ্রাম পরিষদ। তাদের বক্তব্য, এতে ক্ষুদ্র চার্জিং স্টেশন মালিক ও চালকেরা বড় ব্যবসায়ী এবং বীমা প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন।
সংগঠনটির অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে উৎপাদন, ফিটনেস ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় বিআরটিএকে যুক্ত করা, সিটি করপোরেশনের বাইরে পৌরসভা ও অন্যান্য স্থানীয় সরকার এলাকায় বিধিমালার কার্যকারিতা স্পষ্ট করা এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশে প্রায় ৬০ লাখ ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সঙ্গে তিন কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। তাই এসব যানবাহন উচ্ছেদ না করে আধুনিকায়ন ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, আগামী ১১ নভেম্বর দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে সমাবেশ করবে সংগ্রাম পরিষদ। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হবে।




