‘আংশিক সংশোধন মানব না’—বিশেষ কমিটির সভা বর্জনের ঘোষণা ডাকসু জিএস ফরহাদের

গণভোটের রায় উপেক্ষা করে সংবিধানের আংশিক সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির মতবিনিময় সভা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ। তাঁর দাবি, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে অনুমোদিত সংস্কারের ম্যান্ডেট বাস্তবায়ন না করে পুরোনো সাংবিধানিক কাঠামো বহাল রাখার চেষ্টা চলছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নিজের ফেসবুক পোস্টে ফরহাদ জানান, এদিন বেলা আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ডাকসুর জিএস হিসেবে তাঁকে ওই সভায় আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি ও ডাকসু সভাটি বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ফরহাদ বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থী ও ভোট দেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটবে না, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত হবে এবং বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে উঠবে।
সভা বর্জনের পক্ষে তিনটি কারণ তুলে ধরেছেন ডাকসুর জিএস। প্রথমত, গণভোটে ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ মানুষের ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত রায় ও জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫-এর সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে অনুমোদিত সংস্কারের ম্যান্ডেট বাস্তবায়ন না করে সরকার ও সংসদীয় কমিটি আংশিক সংশোধনের মাধ্যমে পুরোনো সাংবিধানিক কাঠামো বহাল রাখতে চাইছে।
দ্বিতীয়ত, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা থাকলেও মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের ক্ষমতা সংসদের নেই বলে উল্লেখ করেন ফরহাদ। তাঁর ভাষ্য, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ জুলাই জাতীয় সনদের ৪৮টি ধারা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত। তাই সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে এসব সংস্কারের যথাযথ প্রতিফলন সম্ভব নয়।
তৃতীয়ত, বিদ্যমান সংবিধানের অধীনে একতরফাভাবে সংশোধনী আনা হলে তা ভবিষ্যতে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এক্ষেত্রে পঞ্চম, অষ্টম ও ত্রয়োদশ সংবিধান সংশোধনী বাতিলের উদাহরণ তুলে ধরেন ডাকসুর জিএস। তাঁর মতে, স্বাধীন সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করে সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে সংশোধন করা হলে সংস্কার উদ্যোগের আইনি স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
ফরহাদ বলেন, সংবিধানের আংশিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংশোধন তাঁরা মেনে নেবেন না। তাঁর দাবি, অবিলম্বে এ প্রক্রিয়া বন্ধ করে গণভোটে ৬৯ শতাংশ মানুষের ম্যান্ডেট অনুযায়ী জুলাই সনদের আলোকে একটি স্বাধীন ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করতে হবে।
তবে রাষ্ট্র ও সংবিধান সংস্কারের সৎ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগে ডাকসু সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে একতরফা রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের কোনো প্রক্রিয়ায় ডাকসু অংশ নেবে না বলে স্পষ্ট করেন ফরহাদ।




