যুক্তরাষ্ট্রে ইস্পাতের দাম চার বছরের সর্বোচ্চে, টনপ্রতি প্রায় ১,৪০০ ডলার
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হট-রোল্ড ইস্পাতের দাম টনপ্রতি প্রায় ১ হাজার ৪০০ ডলারে পৌঁছেছে। ২০২২ সালের মে মাসের পর নির্মাণ ও উৎপাদন খাতের অপরিহার্য এই ধাতুর দাম দেশটিতে আর এতটা বাড়েনি বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিজনেস রেকর্ডারের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমদানি করা ইস্পাতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক ধার্য করার পর আন্তর্জাতিক সরবরাহ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। বিদেশি পণ্যের বিকল্প কমে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ বাজারে স্থানীয় উৎপাদকেরা পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছেন।
মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি–সেপ্টেম্বর) প্রক্রিয়াজাত ইস্পাত আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টনে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪ শতাংশ কম।
আমদানি কমায় দেশটির সার্বিক ইস্পাত বাজারে বিদেশি পণ্যের অংশীদারত্ব ১৯ শতাংশ থেকে নেমে ১৬ শতাংশে এসেছে। বাজারে বিদেশি পণ্যের জোগান সংকুচিত হওয়ায় স্থানীয় কারখানাগুলো বাড়তি দামে পণ্য বিক্রির সুবিধা পাচ্ছে।
শিল্প বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছেন, বছরের শেষ ভাগে সরবরাহ পরিস্থিতি আরও নাজুক হতে পারে। ডিসেম্বর পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণ কাজের অংশ হিসেবে বেশ কয়েকটি বড় কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে অন্তত ১০ লাখ টনের বেশি উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে।
একই সঙ্গে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত পুরোনো ধাতব স্ক্র্যাপের চড়া দাম উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বাড়তি ব্যয়ের চাপ এসে পড়ছে স্থানীয় ক্রেতাদের ওপর।
বিশ্বের অন্যান্য প্রধান অঞ্চলের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে ইস্পাতের দাম এখন অস্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে। দেশটিতে বর্তমান দর ইউরোপের চেয়ে প্রায় ৬৬ শতাংশ বেশি এবং চীনের অভ্যন্তরীণ মূল্যের তুলনায় প্রায় তিন গুণ।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, অভ্যন্তরীণ মিলগুলোকে সুরক্ষা দিতে আমদানি শুল্কের যে প্রাচীর তোলা হয়েছে, তা ইস্পাতনির্ভর অন্যান্য শিল্পের উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনমুখী খাতের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ঝুঁকির মুখে পড়েছে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলেও ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।

