জনগণের অধিকার ফিরে না আসা পর্যন্ত লড়াই চলবে: মুক্ত আখতারুজ্জামানের সংবর্ধনায় জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের অধিকার, সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। জনগণের অধিকার জনগণের হাতে ফিরে না আসা পর্যন্ত এ লড়াই চলবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জামায়াতে ইসলামীর নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের কারাভোগ শেষে মুক্তিলাভ উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, এক মাস তিন দিন কারাভোগের পর তাদের সম্মানিত সহকর্মী মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান আবার তাদের মাঝে ফিরে এসেছেন। তিনি কোনো অন্যায় করেননি; বরং শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও যাত্রী হয়রানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে তাকে কারাভোগ করতে হয়েছে বলে জামায়াত আমির বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে যাত্রীদের দীর্ঘসময় অপেক্ষা করা, ট্রলির সংকট, লাগেজ থেকে মালামাল চুরি এবং অন্যান্য অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে আখতারুজ্জামান প্রতিবাদ করেছিলেন। প্রতিবাদের ভাষা কঠিন হলেও তিনি কারও গায়ে হাত দেননি। অথচ তার বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ও সরকারি কর্মকর্তার গায়ে হাত তোলার অভিযোগে মামলা করা হয়, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে তিনি দাবি করেন।
জামায়াত আমির বলেন, মেজর আখতারুজ্জামানের প্রতিবাদের পর বিমানবন্দরের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে কিছু দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুই দফায় নতুন ট্রলি সংযোজন, লাগেজ বেল্টে ক্যামেরা স্থাপন এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মীদের শরীরে বডি ক্যামেরা সংযুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে যাত্রীরা আগের তুলনায় দ্রুত লাগেজ পাচ্ছেন। এসব পরিবর্তন প্রমাণ করে, তিনি যেসব সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন, সেগুলোর বাস্তবতা ছিল। তার প্রতিবাদের সুফল এখন সাধারণ যাত্রী ও বিশেষ করে প্রবাসীরা পাচ্ছেন বলে তিনি বলেন।
একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে মামলা, রিমান্ডে নেওয়া এবং আদালত প্রাঙ্গণে তাকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, মেজর আখতারুজ্জামানকে ভয় দেখিয়ে বা মামলা দিয়ে প্রতিবাদী কণ্ঠ স্তব্ধ করা যাবে না।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যর্থতা ও অদক্ষতার সমালোচনা মোকাবিলা না করে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে কোনো লাভ হবে না। বিরোধী দলের চরিত্র হননের চেষ্টা বাদ দিয়ে জনগণের দুঃখ-দুর্দশা দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে। অতীতের মতো প্রতিবাদী কণ্ঠ দমিয়ে রাখার চেষ্টা করলে তা এ দেশের মানুষ মেনে নেবে না বলে তিনি বলেন।
অনুষ্ঠানে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বলেন, বিমানবন্দরে প্রবাসীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, অব্যবস্থাপনা ও হয়রানির প্রতিবাদ করায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিমানবন্দরে প্রবাসীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদ করায় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তারের বিষয়ে তার কোনো আপত্তি নেই; কিন্তু প্রশ্ন হলো, তাকে রিমান্ডে নেওয়া হলো কেন। একটি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও জিজ্ঞাসাবাদ করার এখতিয়ার পুলিশকে কে দিয়েছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, চোখ বেঁধে জামায়াতে ইসলামীর বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়েছে। একটি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম, নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে পুলিশ কেন জানতে চাইবে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। বাংলাদেশের আইন পুলিশকে এমন এখতিয়ার দেয়নি। কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে পুলিশ অবশ্যই তদন্ত করবে, কিন্তু রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনুসন্ধানের নামে জিজ্ঞাসাবাদ গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলে তিনি বলেন। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বলেন, এভাবে দেশ পরিচালনা করতে চাইলে বাংলাদেশের মানুষ তা গ্রহণ করবে না। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য তারা প্রতিবাদ ও আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাবেন জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা ও কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করতে হবে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের বিষয়েও তাকে চিন্তা করতে হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তার মুক্তিলাভের পর সংবর্ধনা আয়োজন এবং কারাভোগের সময়ে পাশে থাকার জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।




