শ্রমিক সংকট নিরসনে ব্যর্থতার অভিযোগে শ্রমমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি জনরাষ্ট্র আন্দোলনের

দেশে চলমান পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শ্রমিক সংকট নিরসনে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে শ্রমমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলন। সংগঠনটির সম্পাদক মুহাম্মদ উল্লাহ মধু এবং মুখপাত্র সাম্য শাহ এক যৌথ বিবৃতিতে এই দাবি জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, এই আন্দোলন কেবল বেতন বৃদ্ধির আন্দোলন নয়; এটি বহুদিনের পুঞ্জীভূত অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ। একদিকে নিত্যপণ্যের আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি, বকেয়া মজুরি ও ছাঁটাইয়ের আতঙ্ক, অন্যদিকে সরকারের শ্রম মন্ত্রণালয়ের চরম নিষ্ক্রিয়তা — সবকিছুর পুঞ্জীভূত ফল এই শ্রমিক আন্দোলন বলে বিবৃতিতে বলা হয়।
নেতারা আরও বলেন, জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর বিপুল ভোটে নির্বাচিত এই সরকার শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় চূড়ান্ত ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে, এবং এর প্রধান দায় শ্রমমন্ত্রীর। আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার ষড়যন্ত্র নিয়েও বিবৃতিতে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে পাঁচ দফা জরুরি প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়েছে। প্রথম প্রস্তাবে বলা হয়েছে, শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে ব্যর্থতার দায়ে শ্রমমন্ত্রীকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে এবং সংকটের স্থায়ী সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে।
দ্বিতীয় প্রস্তাবে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরকার, মালিকপক্ষ এবং প্রকৃত শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে জরুরি বৈঠক আহ্বান করে লিখিত সমঝোতা চুক্তি করার কথা বলা হয়েছে।
তৃতীয় প্রস্তাবে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন অবিলম্বে পরিশোধের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক ছাঁটাই বা কালো তালিকাভুক্ত করা যাবে না বলেও প্রস্তাবে বলা হয়েছে।
চতুর্থ প্রস্তাবে সড়ক অবরোধ ও সহিংসতা বন্ধে পুলিশকে বলপ্রয়োগ না করে সংযত ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। ভিডিও প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করা এবং আটক নিরপরাধ শ্রমিকদের দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবিও এতে রয়েছে।
পঞ্চম প্রস্তাবে দীর্ঘমেয়াদে শ্রমিক অসন্তোষের অবসান ঘটাতে এবং শ্রমিকদের প্রকৃত অধিকার ও আপৎকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন 'শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন' গঠনের কথা বলা হয়েছে।
বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে নেতারা বলেন, শ্রমিকদের ক্ষোভকে পুঁজি করে কোনো মহলকে ফায়দা লুটতে দেওয়া হবে না। সরকার ও মালিকপক্ষকে অবিলম্বে শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।




