৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে পঞ্চম দিনের বিক্ষোভ: গাজীপুরে কাশিমপুর থানা ঘেরাওয়ের চেষ্টা, সংঘর্ষ

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে টানা পঞ্চম দিনের মতো গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ চলছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কাশিমপুর থানা ঘেরাও ও হামলার চেষ্টা চালান বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে থানার ভেতর থেকে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে বিক্ষোভকারীরা সাময়িকভাবে ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলেও পরে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিক্ষোভকারীরা সেখান থেকে সরে যান।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) মো. বেলায়েত হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘কাশিমপুর থানা পুলিশের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। পরে পুলিশের ধাওয়ায় আন্দোলনকারীরা ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।’
এর আগে সকাল ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর নাওজোর এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকরা। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
এর কিছুক্ষণ পর একই মহাসড়কের মৌচাকের তেলীরচালা এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। সেখানে প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মাসিক মজুরির দাবিতে কয়েক দিন ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের আন্দোলন চলছে। টানা পঞ্চম দিনে এসে আন্দোলন থানা ঘেরাওয়ের চেষ্টা পর্যন্ত গড়াল।
আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মহাসড়ক অবরোধ, সংঘর্ষ ও বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় শিল্পাঞ্চলের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।




