ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড থেকে বেঁচে যাওয়া ক্রিস্টা পাইকের পুরনো কারাকক্ষে ফেরত না পাঠানোর আবেদন

ব্যর্থ প্রাণঘাতী ইনজেকশনের চেষ্টা থেকে বেঁচে যাওয়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্রিস্টা পাইক জরুরি ভিত্তিতে ফেডারেল আদালতে আবেদন করেছেন, যাতে কারা কর্তৃপক্ষ তাঁকে আগের কারাকক্ষ ব্লকে ফেরত পাঠাতে না পারে। তাঁর দাবি, সেখানে ফিরলে তাঁর জীবন বিপন্ন হবে।
৫০ বছর বয়সী পাইক বর্তমানে ন্যাশভিলের ডেবরা কে. জনসন রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের চিকিৎসা কক্ষে নির্জন কারাবাসে রয়েছেন এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ চেষ্টার পর সেখানেই সেরে উঠছেন। নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালতে দেওয়া আবেদনে পাইক যুক্তি দিয়েছেন, মারাত্মক শারীরিক দুর্বলতার কারণে আগের ইউনিটে ফিরলে তিনি নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন না এবং ঝুঁকিতে পড়বেন।
আবেদনে বলা হয়েছে, ওই কক্ষে গুরুতর হামলা ও শৃঙ্খলাজনিত সমস্যার ইতিহাস থাকা বন্দীরা থাকেন। পাইক লিখেছেন, ওই কক্ষে দুই বছর থাকার সময় তিনি কাছের বন্দীদের হাতে অন্য বন্দী ও প্রহরীদের ওপর একাধিক হামলা, তীব্র মানসিক ভেঙে পড়ার ঘটনা এবং উল্লেখযোগ্য বিপদ দেখেছেন।
সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় নিজের অক্ষমতার ওপর জোর দিয়ে পাইক লিখেছেন, বর্তমান শারীরিক অবস্থায় অন্য কোনো বন্দী আক্রমণ করলে তিনি নিজেকে রক্ষা করতে বা পালিয়ে যেতে পারবেন না এবং এত দুর্বল থাকা অবস্থায় ওই কক্ষে পাঠানো হলে গুরুতর আঘাত পাওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, আগের ইউনিটে ফিরলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে সংক্রমণ ও আরও আঘাতের উচ্চ ঝুঁকি থাকবে। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সেরে ওঠার এই সময়ে তাঁকে নিজেকেই একটি কথিত তেলাপোকা-আক্রান্ত শাওয়ার পরিষ্কার করে ব্যবহার করতে হবে।
পাইককে ১৯৯৫ সালে নক্সভিলে জব কর্পস প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সহঅংশগ্রহণকারী ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ২০০১ সালে আরেক বন্দীকে হত্যাচেষ্টার দায়ে তিনি আরও একটি দণ্ড পান।
টেনেসিতে দুইশ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে প্রথম নারী হিসেবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা ছিল পাইকের। কিন্তু গত ৩০ সেপ্টেম্বর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টায় প্রাণঘাতী ওষুধ পেন্টোবারবিটালের দুটি ডোজ দিয়েও তাঁকে হত্যা করা যায়নি এবং তিনি বেঁচে যান।
ব্যর্থ এই প্রক্রিয়ার পর টেনেসির গভর্নর বিল লি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যের সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সাময়িকভাবে স্থগিত করেন। যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ডবিষয়ক একজন শীর্ষ গবেষকের মতে, ব্যর্থ ইনজেকশন থেকে বেঁচে যাওয়ার ঘটনায় পাইক মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে তিনি মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই পেতে পারেন; গবেষক আরও কয়েকটি সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেছেন।
এ বিষয়ে টেনেসি সংশোধন বিভাগের সঙ্গে ফক্স নিউজ ডিজিটাল যোগাযোগ করেছে।




