মার্কিন ভোটারদের কাছে শীর্ষ ইস্যু অর্থনীতি ও গণতন্ত্রের অবস্থা: নির্বাচনের দিনের জরিপ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু অর্থনীতি ও গণতন্ত্রের অবস্থা—নির্বাচনের দিন পরিচালিত এক বড় জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। ‘ভোটার পোল’ নামের এই জরিপে কয়েক হাজার মার্কিন ভোটারের মতামত ও ভোটের প্রেরণা জানতে চাওয়া হয়।
একদল সংবাদমাধ্যমের কনসোর্টিয়ামের পক্ষে জরিপ সংস্থা এসএসআরএস এই তথ্য সংগ্রহ করে। ৭৯ হাজারের বেশি মানুষের ওপর করা জরিপটি আগাম ভোট দেওয়া ও নির্বাচনের দিন ভোট দেওয়া—উভয় ধরনের ভোটারদের এক্সিট পোলসহ মার্কিন ভোটারদের একটি প্রতিনিধিত্বমূলক নমুনা।
জরিপ অনুযায়ী, ৩৯ শতাংশ ভোটার বলেছেন অর্থনীতিই তাঁদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। গণতন্ত্রের অবস্থাকে শীর্ষে রেখেছেন ৩২ শতাংশ। অভিবাসনকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলেছেন ১৪ শতাংশ, আর স্বাস্থ্যসেবা, পররাষ্ট্রনীতি ও অপরাধকে প্রথমে রেখেছেন আরও কমসংখ্যক ভোটার।
জাতীয় অর্থনীতির অবস্থা নিয়ে ভোটারদের বেশির ভাগের মূল্যায়ন নেতিবাচক। ৭৫ শতাংশ বলেছেন অর্থনীতির অবস্থা ‘খুব ভালো নয় বা খারাপ’, মাত্র ২৫ শতাংশ বলেছেন ‘চমৎকার বা ভালো’।
নিজেদের পারিবারিক আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে ৪৪ শতাংশ ভোটার বলেছেন, দুই বছর আগের তুলনায় তাঁরা খারাপ অবস্থায় আছেন। ৩৮ শতাংশ বলেছেন অবস্থা প্রায় একই, আর ১৮ শতাংশ বলেছেন আগের চেয়ে ভালো আছেন।
প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ (৬৫ শতাংশ) ভোটার মনে করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে। বিপরীতে ২৮ শতাংশ বলেছেন তাঁর নীতি পরিস্থিতির উন্নতি করেছে, আর মাত্র ৮ শতাংশ বলেছেন প্রেসিডেন্টের কোনো প্রভাব নেই।
ভোটের প্রেরণা নিয়ে জিজ্ঞাসায় ৪৩ শতাংশ বলেছেন, ট্রাম্পের প্রতি বিরোধিতা প্রকাশ তাঁদের ভোটের একটি কারণ। প্রায় একই অনুপাতে ৪১ শতাংশ বলেছেন ট্রাম্প তাঁদের কাছে কোনো বিষয় নন, আর মাত্র ১৬ শতাংশ বলেছেন সমর্থন প্রকাশই তাঁদের ভোটের কারণ।
দেশের পরিস্থিতি নিয়ে ভোটারদের মনোভাবেও অসন্তোষ স্পষ্ট। প্রায় চারজনের মধ্যে প্রায় দুইজন—৩৮ শতাংশ—বলেছেন তাঁরা ক্ষুব্ধ, আরও ৩৭ শতাংশ বলেছেন তাঁরা অসন্তুষ্ট। সন্তুষ্ট বলেছেন মাত্র ১৮ শতাংশ, আর উৎসাহী মাত্র ৭ শতাংশ।
মূল্যস্ফীতি নিয়েও চাপের চিত্র এসেছে জরিপে। প্রায় ১০ জনের মধ্যে ৮ জন (৭৯ শতাংশ) ভোটার বলেছেন, গত এক বছরে মূল্যস্ফীতি তাঁদের ও তাঁদের পরিবারের জন্য গুরুতর বা মাঝারি ভোগান্তি তৈরি করেছে। কোনো ভোগান্তি হয়নি বলেছেন ২১ শতাংশ।
পেট্রল ও ডিজেলের দাম নিয়ে ‘খুব উদ্বিগ্ন’ ৫৯ শতাংশ ভোটার, খাদ্য ও মুদি পণ্যের দাম নিয়ে একই উত্তর দিয়েছেন ৫৮ শতাংশ।
স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি দামের জন্য ট্রাম্পের নীতিকে বেশি দায়ী করেছেন ৬২ শতাংশ উত্তরদাতা, আর ৩৮ শতাংশ বলেছেন এর কারণ তাঁর নিয়ন্ত্রণের বাইরের বিষয়।
এই নির্বাচনে মার্কিনরা কংগ্রেসের সদস্য নির্বাচন করছেন। প্রতিনিধি পরিষদের সব ৪৩৫ আসনেই ভোট হচ্ছে; সিনেটে ছয় বছরের মেয়াদের কারণে ১০০ আসনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে ৩৫টিতে।




