নওগাঁ-৩ আসনের নিজ দলের এমপির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুললেন বিএনপি নেতা বুলেট

নওগাঁ-৩ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন নিজ দলেরই স্থানীয় শীর্ষ নেতা।
মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রবিউল আলম বুলেটের এমন অভিযোগ সংবলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ভিডিওতে বুলেট খাদ্যগুদাম ও ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে কোটি টাকা লোপাটের সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে পাঠানোর ঘোষণা দেন। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে তিনি রাজনীতিই ছেড়ে দেবেন।
ভিডিওতে বুলেটকে মহাদেবপুরে বিএনপির নামে পৃথক সাইনবোর্ড টাঙিয়ে কার্যালয় খোলার সমালোচনা করতেও দেখা যায়। আগামী ৭ নভেম্বরের কর্মসূচি শেষে ওই সাইনবোর্ড খুলে ফেলার দাবি জানান তিনি।
বুলেট বলেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাদের সুসংগঠিত থাকতে এবং জনগণের বিশ্বাস অর্জনে নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলার নির্দেশনা দিয়েছেন। তারা সেই নির্দেশনা অনুসরণ করেই চলছেন। তাঁর ভাষ্য, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তিনি এতদিন মুখ খোলেননি।
তিনি হুঁশিয়ারি দেন, সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল প্রতিটি ইউনিয়নে চিঠি দিয়ে যে চাঁদা নিয়েছেন, তার জবাব দেওয়া হবে। কোন ইউনিয়নের কাছে বিএনপি টাকা চেয়েছে এবং সংসদ সদস্য কার কাছে টাকা চেয়েছেন, তার প্রমাণ জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে বলেও তিনি বলেন।
ভিডিওতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের প্রসঙ্গ টেনে বুলেট বলেন, শেখ হাসিনার হাতে পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও প্রশাসন থাকলেও তিনি ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেননি। কোনো জনপ্রতিনিধির হাতে প্রশাসনিক ক্ষমতা থাকলেও তা জনগণের শক্তির চেয়ে বড় নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংসদ সদস্যের সমালোচনা করে বুলেট দাবি করেন, ফজলে হুদা বাবুলের এক প্রতিনিধিকে গ্রেপ্তার এড়াতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পা ধরে ক্ষমা চাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
সংসদ সদস্যের টেলিভিশন টকশোতে দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে বুলেট বলেন, সেখানে তিনি জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে তিন কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
সাবেক সংসদ সদস্য সেলিমের সময়ের সঙ্গে তুলনা করে বুলেট দাবি করেন, আগের পাঁচ বছরে সেলিম যা করেননি, বর্তমান সংসদ সদস্য আট-নয় মাসেই তার চেয়ে বেশি দুর্নীতি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, একটি খাদ্যগুদাম থেকেই সংসদ সদস্য তিন কোটি টাকার বেশি নিয়েছেন। কোনো কাজ না করেই কীভাবে কাজের বিল তোলা হয়েছে, তার হিসাবও যথাসময়ে প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা বুলেট বলেন, এ বিষয়ে সময়মতো কথা বলব।
অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল বলেন, রাজনীতিতে থাকলে মানুষ এমন রাজনৈতিক কথা বলবেই। বাংলাদেশ এখন তথ্যপ্রবাহের ক্ষেত্রে স্বাধীন এবং বিএনপি সবকিছু উন্মুক্ত করে দিয়েছে, তাই লুকোচুরির কিছু নেই। যার কাছে অডিও বা বক্তব্য রয়েছে, তিনি প্রমাণসহ জাতির সামনে আসুন।
বাবুল আরও বলেন, আমি রাজনীতিতে নতুন নই, রাজনীতি করতে গেলে অনেকেই অনেক কথা বলবে। আপনারা স্বাধীনভাবে খোঁজ নিয়ে নিজেদের মতো সংবাদ প্রকাশ করতে পারেন।




