দক্ষিণ আফ্রিকায় স্থানীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ, পতনের ধারায় থাকা এএনসির বড় পরীক্ষা

দক্ষিণ আফ্রিকায় বুধবার স্থানীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এই নির্বাচনকে দেখা হচ্ছে একসময়ের শক্তিশালী আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের (এএনসি) জনপ্রিয়তার একটি মূল্যায়ন হিসেবে — যে দলটি দেশটিকে শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘু শাসন থেকে মুক্তির পথে নেতৃত্ব দিয়েছিল, কিন্তু গত এক দশক ধরে তার সমর্থন ধারাবাহিকভাবে কমছে।
এই নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে দেশের আটটি প্রধান নগর পৌরসভা, ৪৪টি জেলা পরিষদ এবং ২০৫টি স্থানীয় পরিষদের নেতৃত্ব কারা দেবেন।
নির্বাচনের সবচেয়ে বড় লড়াইয়ের কেন্দ্র দেশের বৃহত্তম শহর ও অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র জোহানেসবার্গ। আফ্রিকার সবচেয়ে ধনী শহর হিসেবে পরিচিত এই নগরীর পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহসহ নানা নাগরিক সেবার সংকট স্থানীয় সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে লাখো দক্ষিণ আফ্রিকানের হতাশাকে সামনে এনেছে।
গত স্থানীয় নির্বাচনের পর চার বছরে জোহানেসবার্গের মেয়র বদলেছে পাঁচবার। শহরটি বর্তমানে একটি ভঙ্গুর এএনসি-নেতৃত্বাধীন জোটের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে, আর এটিকে দখলের লক্ষ্য নিয়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (ডিএ)।
ডিএ মেয়র পদে প্রার্থী করেছে দলটির সাবেক জাতীয় নেতা ৭৫ বছর বয়সী হেলেন জিলকে। এএনসি ও অন্যান্য দলের শাসনব্যর্থতা তুলে ধরতে তিনি একের পর এক প্রচারমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন — এর মধ্যে রয়েছে রাস্তার মাঝখানে পানিভরা গর্তে স্নরকেলিং করা এবং শহরের আরেক অংশে পানি লিক থেকে তৈরি পুকুরে ফোলানো নৌকা ভাসানো। প্রায় ৫০ লাখ মানুষের এই শহরের এসব দৃশ্য ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় ভোটাররা সরাসরি মেয়র নির্বাচন করেন না; তারা পরিষদ সদস্যদের ভোট দেন, আর সেই পরিষদই মেয়র বেছে নেয়। ফলে স্থানীয় সরকারের জোট গঠনে ছোট দলগুলো প্রায়ই 'কিংমেকার' ভূমিকা পালন করে।
২০২১ সালের গত স্থানীয় নির্বাচনে এএনসি প্রথমবারের মতো ৫০ শতাংশের কম ভোট পায় — ১৯৯৪ সালে বর্ণবাদী শাসনের অবসানের পর যা ছিল নজিরবিহীন।
এরপর ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে দলটি তিন দশকের সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়, যা ছিল আফ্রিকার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির জন্য এক বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন। তখন এএনসি ডিএ ও অন্যান্য দলের সঙ্গে জাতীয় জোট সরকার গঠন করে, আর এএনসি নেতা সিরিল রামাফোসা আবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
জাতীয় পর্যায়ে অংশীদার হলেও স্থানীয় নির্বাচনে দুই দলই একে অপরের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বী। জিলের জোহানেসবার্গের মেয়র হওয়ার চেষ্টা পরীক্ষা করবে ডিএ তার ঐতিহ্যবাহী সমর্থনঘাঁটি দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর কেপ টাউনের বাইরে কতটা জায়গা করে নিতে পারে।
এই নির্বাচনেই প্রথমবার স্থানীয় ভোটে লড়ছে সাবেক প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমার নেতৃত্বাধীন এমকে পার্টি। দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে দাঁড়ান জুমা, আর নতুন দল গড়ায় ২০২৪ সালে তাঁকে এএনসি থেকে বহিষ্কার করা হয়। ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে চমকপ্রদ অভিষেকের পর দলটি সংসদে তৃতীয় বৃহত্তম দল হয়, আর জুমার নিজ প্রদেশ পূর্বাঞ্চলীয় কোয়াজুলু-নাটালে দলটির শক্ত সমর্থন রয়েছে।
দেশজুড়ে নির্বাচনের প্রধান ইস্যু অপর্যাপ্ত নাগরিক সেবা, বিশেষ করে ব্যর্থ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা। এ ছাড়া উচ্চ অপরাধ ও বেকারত্বের হারও ভোটারদের উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে, আর সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষের দেশটিতে সমর্থন ও মনোযোগ কেড়েছে; কয়েকটি দল অনিয়মিত অভিবাসনবিরোধিতাকে তাদের স্থানীয় নির্বাচনী প্রচারের কেন্দ্রীয় বিষয় করেছে।



