রুশ পড়তে বলায় ইউক্রেনীয় শরণার্থী শিশুদের কাছে ক্ষমা চাইল যুক্তরাজ্য, আসছে ইউক্রেনীয় জিসিএসই

ইংল্যান্ডের স্কুলগুলোতে রুশ ভাষা পড়তে বলা হয়েছিল যেসব ইউক্রেনীয় শরণার্থী শিশুকে, তাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। একই সঙ্গে ইউক্রেনীয় ভাষায় নতুন একটি জিসিএসই পরীক্ষা চালুর জন্য অর্থায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
স্কুলমন্ত্রী জর্জিয়া গোল্ড বলেন, অনেক শিক্ষার্থীকে রুশ ভাষা পড়তে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের এমন অবস্থায় ফেলার জন্য তিনি সত্যিই দুঃখিত, এবং তারা যাতে ইউক্রেনীয় জিসিএসই দেওয়ার সুযোগ পায়, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন এই যোগ্যতা পরীক্ষাটি ২০২৮ সালে ইংল্যান্ডে প্রস্তুত হবে। এটি তৈরি করছে পরীক্ষা বোর্ড একিউএ, আর শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ড অনুদান।
২০২২ সালে ভ্লাদিমির পুতিনের আগ্রাসনের পর যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নেওয়া ৩০ হাজারের বেশি ইউক্রেনীয় শিশুর পক্ষে ইউক্রেন সরকার ও ইউক্রেনীয় কমিউনিটি গোষ্ঠীগুলো বছরের পর বছর ধরে এই দাবি জানিয়ে আসছিল।
২০২৪ সালে শিক্ষা বিভাগকে লেখা এক চিঠিতে কিয়েভের শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছিল, ইউক্রেনীয় জিসিএসই না থাকায় অনেক ইউক্রেনীয় শিশুকে রুশ জিসিএসই দিতে স্কুলের কর্মীরা চাপ দিচ্ছেন বলে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
গোল্ড পশ্চিম লন্ডনের সেন্ট মেরিজ স্কুলে গিয়ে এই ঘোষণা দেন। স্কুলটি যুক্তরাজ্যের ১৩টি ইউক্রেনীয় ভাষার স্কুলের একটি নেটওয়ার্কের কেন্দ্র। সেখানে তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় ২০ বছর বয়সী ভিতালি আন্দ্রোনিকের, যিনি ১৫ বছর বয়সী শরণার্থী থাকাকালে তাঁকে রুশ জিসিএসই পড়তে বলা হয়েছিল। গোল্ড তাঁকে বলেন, তাঁকে এমন অবস্থায় ফেলার জন্য তিনি দুঃখিত।
আন্দ্রোনিক নতুন যোগ্যতা ও ক্ষমা প্রার্থনাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, তাঁর নিজের ক্ষেত্রে এটি দেরি হয়ে গেছে, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শরণার্থীরা যাতে ইউক্রেনীয় পড়তে পারে, তিনি তা চান। তাঁর ভাষায়, এটি তাদের ভোগ করা মানসিক আঘাতের স্বীকৃতি, এবং ভবিষ্যতে এখানকার শিশুদের আর রুশ পড়তে হবে না শুনে তিনি আনন্দিত।
১৬ বছর বয়সী সোফিয়া চোনকা ২০২৪ সালের জুনে পরিবারের সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিম ইউক্রেনের জাকারপাতিয়া থেকে লন্ডনে পালিয়ে আসেন। তিনি বলেন, নবম বর্ষে তাঁকে রাশিয়া বিষয়ে পড়তে বলা হলে তিনি না বলে দিয়েছিলেন; রাশিয়ার সঙ্গে তিনি কোনো সম্পর্ক রাখতে চাননি, কারণ তারা তাঁর মানুষদের হত্যা করেছে ও তাঁর পরিবারকে আহত করেছে। সম্প্রতি এ-লেভেল শুরু করা চোনকা বলেন, নতুন পরীক্ষাটি চালু হলে তিনি তা দেবেন।
ইউক্রেনের শিক্ষামন্ত্রী আন্দ্রি বুতেনকো যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, রাশিয়ার আগ্রাসনের যুদ্ধের কারণে ঘর ছাড়তে বাধ্য হওয়া ইউক্রেনীয় শিশুরা এখন নিজের মাতৃভাষাকে জিসিএসই বিষয় হিসেবে বেছে নেওয়ার সমান সুযোগ পাবে। উচ্চমানের ও সবার জন্য সহজলভ্য একটি যোগ্যতা গড়ে তুলতে তারা একিউএ ও শিক্ষা বিভাগের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবেন বলেও তিনি জানান।
সেন্ট মেরিজ ট্রাস্টের প্রধান ইন্না হ্রিহোরোভিচ ২০১৪ সালে রাশিয়ার ক্রিমিয়া দখলের পর থেকেই এই জিসিএসইর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তিনি বলেন, এখন আর লড়াই করতে হবে না, তা বিশ্বাস করা এখনও কঠিন। তাঁর পরবর্তী প্রচার হবে ইউক্রেনীয় ভাষায় নতুন একটি এ-লেভেলের জন্য।
গোল্ড বলেন, আপাতত তারা শুধু জিসিএসই নিয়েই কাজ করছেন। তিনি ব্রিটিশ শিশুদেরও সংহতি প্রকাশ হিসেবে নতুন এই যোগ্যতাটি পড়তে উৎসাহিত করেন। ঘোষণা শুনে সেখানে থাকা একদল ইউক্রেনীয় শিক্ষার্থী করতালি দিয়ে একসঙ্গে ইউক্রেনীয় ভাষায় ধন্যবাদ জানায়।



