বুন্দিবুগিও ধরনের জন্য দুটি নতুন ইবোলা টিকার পরীক্ষায় অনুমোদন দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) দুটি নতুন ইবোলা টিকার ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার অনুমোদন দিয়েছে। কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের (ডিআরসি) ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ইবোলা প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকেরা লড়াই করার মধ্যে এই সিদ্ধান্ত এসেছে।
সোমবার ডব্লিউএইচওর বিশেষজ্ঞ দলগুলো বুন্দিবুগিও ধরনের বিরুদ্ধে লড়ার জন্য নকশা করা দুটি টিকার পরীক্ষা যুক্ত করার সুপারিশ করে। এই ধরনটি মে মাস থেকে ৫ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়েছে, যাঁদের বেশির ভাগই ডিআরসির।
জনস্বাস্থ্য সংস্থাগুলো বুন্দিবুগিও ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে। এই ধরনের জন্য বিশেষভাবে নকশা করা টিকা বা চিকিৎসা না থাকায় এর মৃত্যুহার ৫০ শতাংশ।
ডব্লিউএইচও প্রধান টেডরোস আধানম গ্যাব্রিয়েসুস বলেন, গত মাসে শুরু হওয়া একটি পরীক্ষায় এরভেবো টিকা ব্যবহার করা হয়েছে, যেটি ইবোলা ভাইরাসের জায়ার ধরনের জন্য অনুমোদিত, কিন্তু বুন্দিবুগিওর জন্য নকশা করা নয়।
টেডরোস বলেন, পরীক্ষাধীন নতুন টিকাগুলো বিশেষভাবে বুন্দিবুগিও ভাইরাসের জন্যই নকশা করা হয়েছে। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, টিকা পরীক্ষার ফল পাওয়া যাবে ২০২৭ সালের শুরুর দিকে।
টেডরোস জানান, ডিআরসির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ এই পরীক্ষাটি পরিচালনা করছে এবং ডব্লিউএইচও ও অন্যান্য অংশীদার তাতে সহায়তা দিচ্ছে। টিকাটি তৈরি করেছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া ও মডার্নার সঙ্গে।
টেডরোস বলেন, ‘টিকা শক্তিশালী হাতিয়ার, কিন্তু যেসব প্রমাণিত ব্যবস্থা এখনই জীবন বাঁচাতে পারে, সেগুলোর বিকল্প নয়: দ্রুত চিকিৎসা, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ, আইসোলেশন, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ দাফন এবং সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিশ্বস্ত সম্পৃক্ততা।’
আফ্রিকা রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র জানিয়েছে, বুন্দিবুগিও ভাইরাসের ১০ হাজার ৪৪৪টি সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে, যা ডিআরসির ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত বেড়ে ওঠা প্রাদুর্ভাব।
ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, কেনিয়ায় দুজনের মৃত্যুসহ নয়টি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। নাইজেরিয়ায় একটি সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে।
টেডরোস কিছু দেশের আরোপ করা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেন, এগুলো স্বচ্ছ প্রতিবেদনকে নিরুৎসাহিত করতে পারে। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা সঠিক কাজ করার জন্য দেশগুলোকে শাস্তি দেয়, স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে অনীহা তৈরি করে এবং প্রতিক্রিয়ামূলক ব্যবস্থার ক্ষতি করে।’
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, সংক্রমণ সীমান্ত পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় প্রস্তুতি নিতে ডিআরসির সব প্রতিবেশী দেশকে তারা সহায়তা দিচ্ছে।
এদিকে ইবোলায় আক্রান্ত এক ব্রিটিশ স্বাস্থ্যকর্মীকে বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য ডিআরসি থেকে যুক্তরাজ্যে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে যুক্তরাজ্য সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে সরকার বলেছে, রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল এবং বৃহস্পতিবারের মধ্যে তিনি যুক্তরাজ্যে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে, এরপর তাঁকে একটি উচ্চ-পরিণতির সংক্রামক রোগ ইউনিটে স্থানান্তর করা হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, ইবোলা থেকে যুক্তরাজ্যের জনগণের জন্য ঝুঁকি কমই রয়েছে।



