বিলে আরও ছাড় না দেওয়ায় মোহাম্মদপুরের সিটি হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুর, থানায় লিখিত অভিযোগ

চিকিৎসা বিলে কেন বেশি ছাড় দেওয়া হলো না, তা নিয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সিটি হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে একদল তরুণ এই হামলা চালিয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে।
হাসপাতালটির মার্কেটিং বিভাগের প্রধান মোস্তাফিজুর রহমান খান বুধবার রাতে জানান, মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে হাসপাতালটিতে এই হামলা হয়। তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাতে আসমা বেগম নামের এক রোগী ঠোঁটের চিকিৎসা করাতে আসেন। চিকিৎসা শেষে বিল আসে ৫ হাজার টাকা। রোগীর স্বজনেরা বিলের ওপর ছাড় দেওয়ার অনুরোধ জানালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ২ হাজার টাকা কমিয়ে বিল নির্ধারণ করে ৩ হাজার টাকা।
মোস্তাফিজুর রহমান খান বলেন, স্বজনেরা আরও কমানোর অনুরোধ জানালে আরও ৩০০ টাকা কমিয়ে বিল করা হয় ২ হাজার ৭০০ টাকা। এই টাকাও তাঁরা দিতে আপত্তি জানান। পরে আর কমানো যাবে না বলে রোগীকে জানানো হলে তিনি বিল পরিশোধ করে চলে যান।
এর কিছুক্ষণ পর গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে একদল যুবক হাসপাতালে আসেন। কেন বিল আরও কমানো হবে না—এই বলে তাঁরা হাসপাতালের নিচতলায় ভাঙচুর শুরু করেন। নিচতলার কাচ, বসার জায়গা ও অভ্যর্থনাকক্ষে ভাঙচুর চালানো হয় বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
মোস্তাফিজুর রহমান খান বলেন, তাঁরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই এসে হামলা চালানো হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ধারণা, ভাঙচুর করা যুবকেরা কলেজটির আবাসিক হলের ছাত্র এবং হামলাটি পরিকল্পিত ছিল বলে তারা অভিযোগ করেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় বুধবার সকালে মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশের সদস্যরা হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। র্যাব সদস্যরাও হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল হালিমের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা মহানগর পুলিশের মোহাম্মদপুর অঞ্চলের এক কর্মকর্তা বলেছেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি অভিযোগ দিয়েছে; তাঁরা যাচাই-বাছাই করে দেখছেন। এখনো মামলা হয়নি।



