আত্মসমর্পণের পর ৫০০ টাকার মুচলেকায় জামিন পেলেন পরীমনি, সাক্ষ্যগ্রহণ ২৩ ডিসেম্বর
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদকে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ক্লাবে ভাঙচুরের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। ৫০০ টাকার মুচলেকায় তাঁর জামিন আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমানের আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে জামিনের আবেদন জানালে শুনানি শেষে আদালত তা মঞ্জুর করেন। এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছান এই অভিনেত্রী; বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনি আদালতের এজলাসে প্রবেশ করেন।
এর আগের দিন বুধবার (৪ নভেম্বর) মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের নির্ধারিত দিনে আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন পরীমনি। তাঁর আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সময়ের আবেদন জানালে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মোহাম্মদ সোহেল এর তীব্র বিরোধিতা করেন। শুনানিতে বাদীপক্ষ অভিযোগ তোলে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আদালতে হাজির না হয়ে বারবার সময় চেয়ে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট করা হচ্ছে। উভয় পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা করে আদালত সময়ের আবেদন নাকচ করে পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন এবং সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী দিন হিসেবে আগামী ২৩ ডিসেম্বর ধার্য করেন।
মারধর, ভাঙচুর ও হুমকির অভিযোগ তুলে ২০২২ সালের ৬ জুলাই সাভার থানায় পরীমনি ও তাঁর সহযোগী জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছিলেন ঢাকা বোট ক্লাবের পরিচালক ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৬ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। সেদিনও আদালতে গরহাজির থাকায় অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল, যা পরদিন ২৭ জুন আত্মসমর্পণের মাধ্যমে প্রত্যাহার হয়।
মামলার তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন ঢাকা জেলা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. মনির হোসেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২১ সালের ৮ জুন রাতে বোট ক্লাবে গিয়ে তিন লিটারের একটি ব্লু লেবেল মদের পার্সেল বিনামূল্যে না পেয়ে নাসির উদ্দিনের ওপর চড়াও হন পরীমনি। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে অ্যাশট্রে ছুড়ে মারলে নাসির উদ্দিনের ডান কানের ওপরের অংশে আঘাত লাগে। এছাড়া তিনি ক্লাবের বারের ভেতরে ভাঙচুর চালান এবং বাধা পেয়ে তাঁর সহযোগী জিমি বাদীকে কিল-ঘুষি মেরে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৮ জুন রাতের সেই ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ঘটনার কয়েক দিন পর এক সংবাদ সম্মেলনে বোট ক্লাবে নিজেকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার শিকার বলে অভিযোগ তোলেন পরীমনি। পরবর্তীতে ১৩ জুন তিনি নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে ওই ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার হন এবং পরে জামিনে মুক্তি পান। নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে পরীমনির করা সেই ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার মামলার বিচারকাজ বর্তমানে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।



