বাগেরহাটে টি-শার্টে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বার্তা, নদীর পাড় দখলমুক্ত করার ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ

নদীর পাড় দখল হয়ে যাচ্ছে, তা ঠেকানোর দায়িত্ব কে নেবে—এমন প্রশ্ন তুলে বাগেরহাটে দেখা গেছে ব্যতিক্রমী এক প্রতিবাদ। ব্যানার, ফেস্টুন কিংবা মানববন্ধন নয়; জাতীয় পতাকার আদলে তৈরি একটি সবুজ টি-শার্টে লাল বৃত্ত এঁকে তাতে বার্তা লিখে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বাগেরহাট প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কের একটি খুঁটিতে।
বার্তাটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে লেখা। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে প্রেস ক্লাবের সামনে এই দৃশ্য চোখে পড়ে।
টি-শার্টে লেখা রয়েছে, বাগেরহাটে স্বাগতম জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বলা হয়েছে, দখল হয়ে গেছে নদীর পাড়, তিনি কি তা ঠেকাতে পারবেন। লেখায় ইংরেজি ‘Please’ শব্দটিও রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বাগেরহাট সফর ঘিরে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে নানা প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সেই সময়ে নদীর পাড় দখলমুক্ত করার দাবিতে এমন ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সাংবাদিক মো. শহিদুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক লেখায় বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর বাগেরহাট সফর ঘিরে নিজের প্রত্যাশার কথা এভাবেই জানানোর চেষ্টা করেছেন কেউ একজন।
শহিদুল ইসলাম লেখেন, হয়তো যাঁর উদ্দেশে এই বার্তা, তাঁর চোখে এটি পড়বে না। তবু একটা আশা নিয়ে কেউ হয়তো এটি টাঙিয়ে রেখেছেন—ভেবেছেন, সাংবাদিকদের চোখে পড়লে সংবাদ হবে, আর সেই সংবাদ হয়তো কোনোভাবে প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসবে।
তাঁর মতে, নদীর পাড় ও জমি দখল নিয়ে এই অঞ্চলের আরও অনেক মানুষের একই রকম প্রত্যাশা রয়েছে। তাঁদের চাওয়া, এসব দখল বন্ধ হোক, নদী ও নদীর পাড় রক্ষা পাক।
বাগেরহাটের নদ-নদী ও খাল দখলমুক্ত করার দাবি দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে শহরের ভৈরব ও দড়াটানা নদীর বিভিন্ন অংশে দখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
নদীর জায়গা দখল হয়ে যাওয়ায় কোথাও কোথাও সংকুচিত হয়েছে পানিপ্রবাহের পথ। এতে পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও নদীনির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকাও হুমকির মুখে পড়ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
গত ২৬ জুলাই নদী ও খাল দখলমুক্ত করার দাবিতে বাগেরহাটে তরুণদের উদ্যোগে অবস্থান কর্মসূচিও পালিত হয়। সেখানে সরকারি রেকর্ডভুক্ত নদী-খালের সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং জলাধার রক্ষার দাবি জানানো হয়।
কে বা কারা টি-শার্টটি ঝুলিয়ে রেখেছেন, তা জানা যায়নি। তবে এর মাধ্যমে নদী ও নদীর পাড় রক্ষার যে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে, তা জেলার অনেক মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার সঙ্গে মিলে যায়।




