ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌপথে তীব্র নাব্য সংকট, ২২ কিলোমিটারের পথ পাড়ি দিতে লাগছে পাঁচ ঘণ্টা

দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে তীব্র নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। ২২ কিলোমিটারের এই নৌপথে আট থেকে ১০টি স্থানে অসংখ্য ডুবোচর জেগে ওঠায় নৌযান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্বাভাবিক সময়ে এই পথ পাড়ি দিতে তিন ঘণ্টা লাগত; এখন সময় লাগছে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে প্রতিদিন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রী ও নৌযান শ্রমিকরা।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার সঙ্গে দ্বীপজেলা ভোলার যোগাযোগের অন্যতম প্রধান ও সহজ মাধ্যম এই ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুট। প্রতিদিন এই রুট দিয়ে তিনটি ফেরি ও কয়েকটি যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করে।
শুষ্ক মৌসুম এবং শীতের আগমন ঘটতেই মেঘনা নদীর রহমতপুর, কাটাখালিসহ প্রায় আটটি পয়েন্টে ডুবোচর জেগে উঠেছে। এসব জায়গায় নৌপথে চরে আটকে যাচ্ছে নৌযান।
ডুবোচরের কারণে মূল পথ দিয়ে সোজা চলাচল করতে না পেরে নৌযানগুলোকে প্রায় আট কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে চলতে হচ্ছে। এতে ২২ কিলোমিটারের নৌপথের দূরত্ব বেড়ে প্রায় ৩০ কিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে।
অতিরিক্ত পথ ঘুরে চলার কারণে যাত্রীদের দুই থেকে তিন ঘণ্টা বেশি সময় নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে নৌযানগুলোর অতিরিক্ত জ্বালানি তেলও খরচ হচ্ছে।
এই নৌপথে যাতায়াতকারী যাত্রী আদিলুর রহমান ও জামাল হোসেন বলেন, শীত মৌসুম শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই ডুবোচরের কারণে লঞ্চগুলো সময়মতো ঘাটে পৌঁছাতে পারছে না। নিয়মিত ড্রেজিং না করায় যাত্রীদের দুর্ভোগ দিন দিন চরমে পৌঁছাচ্ছে। দ্রুত ড্রেজিং শুরু না করলে এই রুটে চলাচল একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়বে বলেও তাঁরা বলেন।
এই নৌপথে চলাচলকারী ফেরি ‘কুসুম কলি’, ‘কাবেরী’ ও ‘কদম’-এর মাস্টাররা জানান, ভাটার সময় নদীতে পানির গভীরতা কমে মাত্র চার ফুটে নেমে আসে। এত কম পানিতে ভারী ফেরি চালানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে বাধ্য হয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরে অতিরিক্ত সময় নিয়ে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে।
বিআইডাব্লিউটিসি ভোলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক মো. কায়সার বলেন, ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটটি আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমানে এই রুটের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ডুবোচর। রুটটি স্বাভাবিক ও চলাচলের উপযোগী রাখতে অবিলম্বে ড্রেজিং করা জরুরি।
দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের স্বাচ্ছন্দ্য যাতায়াত নিশ্চিত করতে মেঘনা নদীর এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে দ্রুত খননকাজ শুরু করার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টরা।




