শেখ হাসিনাকে কোনো ট্রাভেল পাস দেওয়া হবে না, প্রত্যর্পণ চুক্তির পথেই ফেরানো হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে কোনো সাধারণ পাসপোর্ট কিংবা ট্রাভেল পাস ইস্যু করার সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি জানিয়েছেন, আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে তাঁকে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
বৃহস্পতিবার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সফররত চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলকে বিদায় জানানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, শেখ হাসিনা সর্বোচ্চ দণ্ডপ্রাপ্ত একজন পলাতক আসামি হওয়ায় তাঁর জন্য কোনো প্রকার প্রচলিত ভ্রমণ ছাড়পত্র প্রযোজ্য হবে না।
তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যকার বন্দি বিনিময় চুক্তির আইনি বাধ্যবাধকতার আলোকে দিল্লি থেকে তাঁকে সরাসরি ফিরিয়ে এনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারকে অন্তর্ভুক্ত করে প্রস্তাবিত ত্রিপক্ষীয় করিডোর প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, এ ধরনের বৃহৎ অবকাঠামোগত সংযোগ নিয়ে বাংলাদেশের কোনো ভূরাজনৈতিক দ্বিধা বা শঙ্কা নেই। বরং এই পথ বাস্তবায়িত হলে পুরো ভূখণ্ড আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এক নতুন প্রাণকেন্দ্রে রূপ নেবে এবং এ আঞ্চলিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে ঢাকার পূর্ণ আগ্রহ রয়েছে।
তবে এই করিডোরের সফল বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হিসেবে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান নিশ্চিত করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে চীনা উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে আখ্যা দিয়ে হুমায়ুন কবির আশা প্রকাশ করেন, লিউ হাইশিংয়ের এই সফরের মধ্য দিয়ে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও বেগবান ও বহুমাত্রিক রূপ লাভ করবে।




