‘টেড টক বাদ দিন, বসকে গিয়ে বলুন’—মধ্যবর্তী হারের বিশ্লেষণ নিয়ে ভ্যান্সকে খোঁচা ইরানের স্পিকারের
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবির কারণ বিশ্লেষণ করে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের দীর্ঘ সামাজিকমাধ্যম-বার্তা নিয়ে এবার বিদ্রূপ করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। বৃহস্পতিবার এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া পোস্টে তিনি ভ্যান্সের ৬১৪ শব্দের বিশ্লেষণটির জবাব দিয়েছেন।
গালিবাফ লিখেছেন, ‘হেরে যাওয়া জুয়াড়ির শক্তি—টেবিল ছেড়ে উঠতেই পারছেন না। বস যুদ্ধের পরের ধাপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আর আমেরিকা ঝুলছে ইসরায়েল-প্রথম খাদের কিনারায়। টেড টক বাদ দিন। এ কথাগুলো আপনার বসকে গিয়ে বলছেন না কেন?’
রিপাবলিকানরা নির্বাচনে বড় পরাজয়ের শিকার হওয়ার ২৪ ঘণ্টা না যেতেই এক্স-এ নিজের বক্তব্য প্রকাশ করেন ভ্যান্স। নিজের হাতে লেখা সেই বার্তায় তিনি স্বীকার করেন, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকান-ইসরায়েলি যুদ্ধই রিপাবলিকান পার্টির মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই বিপর্যয়ের কারণ।
ভবিষ্যতে ভোটারদের আবার দলের দিকে ফেরাতে চারটি কাজ জরুরি বলে উল্লেখ করেছেন ভ্যান্স—এক, যুদ্ধ শেষ করা; দুই, জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির দিকে মনোযোগ দেওয়া; তিন, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করা; এবং চার, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক বদলানো।
ভ্যান্স সরাসরি বলেছেন, ‘আমরা হারার কারণ হলো যুদ্ধ।’ তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার উল্টো অবস্থানে অটল—তাঁর দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র পাওয়া থেকে ঠেকাতে এই সংঘাত প্রয়োজনীয়। নির্বাচনের পর এটাই ছিল ভ্যান্সের প্রথম প্রকাশ্য চেষ্টা, যেখানে তিনি ট্রাম্পের বারবার সমর্থন করা এই যুদ্ধ থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেছেন।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়; তাতে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের বড় অংশ নিহত হয়। জবাবে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় এবং জাহাজ চলাচল হুমকির মুখে ফেলে তেল-গ্যাস সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়।
সেই অচলাবস্থায় জ্বালানি ও সারের দাম বেড়ে যায়, যার ধাক্কা লাগে যুক্তরাষ্ট্রের জীবনযাত্রার ব্যয়ে। এর ফলে রিপাবলিকানদের জন্য নির্বাচনি পরিবেশ হয়ে ওঠে অত্যন্ত প্রতিকূল, এবং মঙ্গলবার রাতে দলটি প্রজন্মের সবচেয়ে বড় পরাজয়ের মুখে পড়ে।

