শিক্ষা থেকে নেতৃত্ব পর্যন্ত নারীর পথ সুগম করতে হবে: জুবাইদা রহমান

শহর ও গ্রামের প্রতিটি মেয়ে ও নারীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেছেন, শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থান ও নেতৃত্বে যাওয়ার পথ নারীদের জন্য আরও সহজ ও সাবলীল করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের ক্রিস্টাল হলে ৩০তম ইউএস ট্রেড শো-২০২৬-এর এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, নারীর অগ্রগতি শুধু কতজন নারী উচ্চপর্যায়ের পদে পৌঁছেছেন, তা দিয়ে পরিমাপ করা যায় না; বরং তাদের অনুসরণ করে কত বেশি নারী এগিয়ে আসতে পারছেন, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, শহরাঞ্চল ও বাংলাদেশের গ্রামীণ অঞ্চলের প্রতিটি মেয়ে ও নারীর জন্য সমান সুযোগ উন্মুক্ত নয়। দেশের ৯০ হাজার ৪৯টি গ্রামের লাখ লাখ নারী এখনো মূলধারার অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন। অথচ তারা অর্থনীতিতে অবদান রাখতে ও নিজেদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করতে আগ্রহী বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নারী শিক্ষার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ২০১২ সালে মাধ্যমিক স্তরে ৩৪ দশমিক ৯ শতাংশ ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ মেয়ে ঝরে পড়ে। বিশ্বব্যাংকের ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, নারীদের উচ্চশিক্ষায় মোট ভর্তির হার ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ।
তাই স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে প্রবেশের প্রতিটি পর্যায়ে মেয়েদের ধারাবাহিক সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি বলেন। শুধু একটি ডিগ্রি অর্জন করলেই চাকরির নিশ্চয়তা তৈরি হয় না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, শিক্ষাই নারীর ক্ষমতায়নের মূল ভিত্তি। মেয়েদের সাক্ষরতা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি তাদের প্রশ্ন করা, উদ্ভাবন ও নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে।
খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি বলে তিনি বলেন। এতে যোগাযোগ, দলগত কাজ, শৃঙ্খলা, জবাবদিহি, সহমর্মিতা ও নেতৃত্বের মতো প্রয়োজনীয় দক্ষতা গড়ে ওঠে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা শুধু আয় করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। উপার্জন, সঞ্চয়, আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সক্ষমতাও এর অংশ। নারীদের কর্মক্ষেত্রে নতুন দক্ষতা অর্জন ও নিজেদের সুযোগ সম্প্রসারণের পরিবেশ তৈরি করতে হবে বলে তিনি বলেন।
তিনি আরও বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। প্রায় এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যার ৮০ শতাংশই নারী। এ ছাড়া ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগ নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি জানান।
নারীদের কর্মজীবন ও পারিবারিক দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য তৈরির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, পারিবারিক দায়িত্ব যেন কোনো নারীর ক্যারিয়ারের পথে বাধা বা শাস্তি হয়ে না দাঁড়ায়। নারীদের কাজ করার স্বাধীনতা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রযুক্তির পরিবর্তনশীল বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল সেবা ও নতুন প্রযুক্তি কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে। ভবিষ্যতের অর্থনীতিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উদ্ভাবনী করতে সেখানে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব নিশ্চিত করা জরুরি।
জুবাইদা রহমান বলেন, নারীর অগ্রগতি একটি যৌথ দায়িত্ব। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো মেয়েদের সামনে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে, আর পরিবার তাদের আরও বড় স্বপ্ন দেখতে উৎসাহিত করতে পারে। সবাই মিলে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নেতৃত্বের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) প্রেসিডেন্ট রূপালী হক চৌধুরী, শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সু সিওং, বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানে ওরাকলের কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর রুবাবা দৌলা ও মাস্টারকার্ডের কান্ট্রি ম্যানেজার নাজিয়া সুলতানা।




