পাঁচ অঙ্গরাজ্যে শুধু নাগরিকদের ভোটের প্রস্তাব পাস, প্রতিটিতে সমর্থন ৬০ শতাংশের বেশি

যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি অঙ্গরাজ্যের ভোটাররা অনাগরিকদের ভোট দেওয়া নিষিদ্ধ করার ব্যালট প্রস্তাব বিপুল ভোটে অনুমোদন করেছেন। অঙ্গরাজ্যগুলো হলো কানসাস, আলাস্কা, আরকানসাস, সাউথ ডাকোটা ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া।
প্রতিটি অঙ্গরাজ্যেই এই প্রস্তাবগুলোর পক্ষে সমর্থন ৬০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। কানসাসে ডেমোক্র্যাটরা বড় ধরনের সিনেট জয় পেয়েছেন, আর আলাস্কায় সিনেট আসনের ফল এখনো ঘোষণা হয়নি।
ফেডারেল আইনে অনাগরিকদের ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়া ইতিমধ্যে নিষিদ্ধ। অনুমোদিত প্রস্তাবগুলো অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় নির্বাচনে নাগরিকত্বের শর্ত স্পষ্ট বা সুনির্দিষ্টভাবে বিধিবদ্ধ করবে।
হনেস্ট ইলেকশনস প্রজেক্টের নির্বাহী পরিচালক জেসন স্নিড বলেন, অনাগরিকদের ভোট নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব বিপুল জনপ্রিয় এবং এতে দুই দলেরই সমর্থন রয়েছে।
স্নিড ২০২৪ সালের একটি গ্যালাপ জরিপের কথা উল্লেখ করেন। ওই জরিপে দেখা গেছে, ৮৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক, যার মধ্যে ৬৬ শতাংশ ডেমোক্র্যাটও রয়েছেন, প্রথমবার ভোটার নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখানোর শর্তকে সমর্থন করেন।
এই ফলাফলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট অ্যারিজোনা সংক্রান্ত একটি সংশ্লিষ্ট বিরোধ বিবেচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেখানে প্রশ্ন হলো, অ্যারিজোনা কি তার অঙ্গরাজ্য ভোটার নিবন্ধন ফরমে নাগরিকত্বের প্রমাণ চাইতে পারে এবং নির্বাচনের আগে সন্দেহভাজন অনাগরিকদের তালিকা থেকে বাদ দিতে পারে কি না।
তবে ক্যালিফোর্নিয়া ও অ্যারিজোনায় সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী প্রস্তাব পাস হয়নি। ক্যালিফোর্নিয়ার প্রপোজিশন ৩৯ ভোটে হেরেছে ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশ বনাম ৪১ দশমিক ৪ শতাংশে, প্রায় ১৭ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে। ওই প্রস্তাবে ভোটার পরিচয়পত্র ও অতিরিক্ত নাগরিকত্ব যাচাইয়ের শর্ত ছিল।
স্নিড বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ায় ওই প্রস্তাব হারাতে বামপক্ষ ৩ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় করেছে। অ্যারিজোনার প্রস্তাব সম্পর্কে তিনি বলেন, সেটি ছিল আরও বিস্তৃত, যাতে অনাগরিক ভোটের বাইরেও কয়েকটি বিধান ছিল, যা এর পরাজয়ে ভূমিকা রাখতে পারে।
পাঁচ অঙ্গরাজ্যের এই জয় এসেছে ট্রাম্প প্রশাসন ও কংগ্রেসের রিপাবলিকানদের ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ পাসের ব্যর্থ চেষ্টার পর। ওই আইনে ভোটার নিবন্ধনে নাগরিকত্বের প্রমাণ বাধ্যতামূলক করার কথা ছিল।
ওই আইনটি কংগ্রেসে বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল। ট্রাম্প এটিকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত করতে চাওয়ায় বিভাগটির শাটডাউনের সময় দীর্ঘ অচলাবস্থা তৈরি হয়। সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুন বলেছিলেন, রিপাবলিকানদের কাছে এটি পাস করার মতো ভোট নেই, অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের যুক্তি ছিল, এটি যোগ্য ভোটারদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করবে।
ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের সাবেক সদস্য এবং অ্যাডভান্সিং আমেরিকান ফ্রিডমের জ্যেষ্ঠ আইনি ফেলো হান্স ভন স্পাকোভস্কি বলেন, ডেমোক্র্যাটিক দল তার ভোটারদের থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। স্নিডও একই মত দিয়ে বলেন, ডেমোক্র্যাটরা ৯০-১০ অনুপাতের একটি ইস্যুকে অত্যন্ত রাজনৈতিক লড়াইয়ে পরিণত করেছে।
তবে স্পাকোভস্কি সতর্ক করে বলেন, অঙ্গরাজ্যগুলো ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাই করতে না পারলে অনুমোদিত বিধানগুলো খুব একটা কার্যকর হবে না। তিনি রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটি বনাম মি ফামিলিয়া ভোটা মামলার দিকে ইঙ্গিত করেন, যেখানে সুপ্রিম কোর্ট সিদ্ধান্ত দেবে ফেডারেল আইন অ্যারিজোনাকে বাধা দেয় কি না।
স্নিড বলেন, ফেডারেল ফরমে নাগরিকত্বের ঘরে টিক দেওয়ার বিদ্যমান ব্যবস্থা যথেষ্ট হয়নি। তিনি বিচার বিভাগের সাম্প্রতিক গ্রেপ্তার ও অনাগরিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা এবং নিউ জার্সির স্বয়ংক্রিয় ভোটার নিবন্ধন ব্যবস্থায় ৬ হাজার ৬০০ অনাগরিক তালিকায় যুক্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৪০০ জন ভোট দিয়েছেন।
স্পাকোভস্কি বলেন, অ্যারিজোনার পক্ষে রায় গেলেও তা শুধু ভবিষ্যতের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। ইতিমধ্যে নিবন্ধিতদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের একমাত্র উপায় হবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সেভ (SAVE) ডেটাবেজ ব্যবহার করা।
স্নিড ভোটার তালিকা পরিষ্কারে অঙ্গরাজ্যগুলোর সেভ ডেটাবেজ ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানোয় ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তবে তিনি ও স্পাকোভস্কি দুজনই উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে ডেমোক্র্যাটরা এই ডেটাবেজের অর্থায়ন বন্ধের চেষ্টা করতে পারে।




