কৃষ্ণ সাগরে ড্রোন হামলার মধ্যে বুলগেরিয়া ও রোমানিয়া সফরে যাচ্ছেন ভন ডার লেয়েন
কৃষ্ণ সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক ড্রোন হামলার পর আগামী সপ্তাহে বুলগেরিয়া ও রোমানিয়া সফরে যাচ্ছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন। ন্যাটোর পূর্ব প্রান্তে নিরাপত্তা উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার মধ্যেই এই সফরের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
পরিকল্পনার সঙ্গে পরিচিত ইউরোপীয় কমিশনের তিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তুরস্কে সিওপি জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পর ভন ডার লেয়েন দুই দেশ সফর করবেন। এক কর্মকর্তা কৃষ্ণ সাগরের বর্তমান পরিস্থিতি বর্ণনা করে বলেন, এটি এখন বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী জাহাজ চলাচলের পথ।
গত মাসে কৃষ্ণ সাগরে অন্তত সাতটি বাণিজ্যিক জাহাজ ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এসব হামলায় দুজন নাবিক নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ২৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
রোমানিয়া এসব হামলার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছে এবং বলেছে, হামলাগুলো ইউক্রেনের বিরুদ্ধে মস্কোর বাড়তে থাকা আগ্রাসনের অংশ, যা সহিংসতাকে ন্যাটো ভূখণ্ডের বিপজ্জনকভাবে কাছে নিয়ে এসেছে। বুলগেরিয়া অবশ্য মস্কোকে সরাসরি দায়ী করেনি; দেশটি বলেছে, ড্রোনগুলো পূর্ব দিক থেকে এসেছে।
শুক্রবার বুলগেরিয়ার উপকূলীয় শহর শাবলার কাছে এক বাসিন্দা সাগরে ভেসে আসা একটি ড্রোন খুঁজে পান। পৌরসভার মেয়র মারিয়ান ঝেচেভ বলেন, ড্রোনটি সাগরের পানিতে ভেসে তীরে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ড্রোনটির উৎস কী এবং বাণিজ্যিক জাহাজে সাম্প্রতিক হামলাগুলোর সঙ্গে এর সম্পর্ক আছে কি না, তা এখনো জানা যায়নি।
ভন ডার লেয়েনের সফরের বিস্তারিত সূচি এখনো খুব কম জানা গেছে। ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা কিংবা ইইউর পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কাল্লাস তাঁর সঙ্গে থাকবেন কি না, তাও স্পষ্ট নয়।
এদিকে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর ন্যাটো মিত্ররা কৃষ্ণ সাগরে নজরদারি বাড়িয়েছে। বুলগেরিয়ার সম্প্রচারমাধ্যম বিটিভি জানিয়েছে, মঙ্গলবার ইতালি, ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি বিমান একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে অভিযান চালাতে দেখা গেছে। ফ্রান্স রোমানিয়ায় সামুদ্রিক টহল বিমানের মোতায়েনের মেয়াদও বাড়িয়েছে।
বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সুরক্ষিত রাখতে কূটনৈতিক উদ্যোগও চলছে। শনিবার আটলান্টায় জি২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেও শস্যবাহী জাহাজগুলো যাতে কৃষ্ণ সাগরে নিরাপদে চলাচল করতে পারে, সে জন্য ভারত ও তুরস্ক প্রস্তাব দিয়েছে।

