বিনিয়োগ তহবিল কেলেঙ্কারির মামলায় তুরস্কের সাবেক মন্ত্রী ফাতমা কায়াকে কারাগারে পাঠাল আদালত
কয়েকশ কোটি ডলারের বিনিয়োগ তহবিল কেলেঙ্কারির তদন্তে তুরস্কের সাবেক পরিবারবিষয়ক মন্ত্রী ফাতমা বেতুল সায়ান কায়াকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ইস্তাম্বুলের একটি আদালত। শুক্রবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এ তথ্য জানিয়েছে।
আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়, পুঁজিবাজার আইন লঙ্ঘন এবং অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে গঠিত একটি সংগঠনের সদস্য হওয়ার অভিযোগে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত কায়াকে কারাগারে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
ফাতমা বেতুল সায়ান কায়া ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তুরস্কের পরিবারবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি তিনি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একে পার্টি) উপপ্রধানের দায়িত্বে ছিলেন।
প্রধান বিরোধী দল ইয়েনি পার্টির পক্ষ থেকে কায়ার বিরুদ্ধে বিনিয়োগ কেলেঙ্কারিতে বিপুল অর্থ লাভের অভিযোগ ওঠার পর গত ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়ান।
বিরোধী দলের এক আইনপ্রণেতা অভিযোগ করেছেন, কায়া ও তার স্বামী বিনিয়োগসংক্রান্ত কিছু শেয়ার কেনাবেচার মাধ্যমে লাখ লাখ ডলার আয় করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, কেলেঙ্কারির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার আগেই তারা ওই শেয়ার বিক্রি করে দেন। এ ঘটনায় শেয়ারবাজারে অভ্যন্তরীণ গোপন তথ্য ব্যবহার করে লেনদেনের (ইনসাইডার ট্রেডিং) অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে বিনিয়োগ তহবিলসংক্রান্ত কেলেঙ্কারিটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে এর প্রভাব সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে তুরস্ক। এ ঘটনায় প্রায় পাঁচ লাখ বিনিয়োগকারীর সঞ্চয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শেয়ারবাজারে ব্যাপকভাবে কারসাজি করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন দেশটির সরকারি কৌঁসুলিরা।
গত মঙ্গলবার তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক জানান, এ ঘটনায় বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত ১১২ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কায়াকে কারাগারে পাঠানোর আদালতের নির্দেশ সেই তদন্তেরই অংশ।




