দীপাবলির আগেই দিল্লির বাতাস ‘গুরুতর’ মাত্রায়, জারি হলো জিআরএপির তৃতীয় পর্যায়ের বিধিনিষেধ

ভারতের রাজধানী দিল্লি ও জাতীয় রাজধানী অঞ্চলে (এনসিআর) এখন শ্বাসকষ্টের মতো পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দীপাবলি আসতে এখনো বাকি থাকলেও শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বাতাসের গুণমান সূচক (একিউআই) ৪০০-এর গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে, যা এই মাত্রাকে ‘গুরুতর’ বা সিভিয়ার শ্রেণিতে ফেলেছে। শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে দিল্লির হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে বলে জানা গেছে।
সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ‘কমিশন ফর এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট’ (সিএকিউএম) পুরো এনসিআরজুড়ে ‘গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান’ (জিআরএপি)-এর তৃতীয় পর্যায়ের বিধিনিষেধ অবিলম্বে কার্যকর করেছে। শুক্রবার এনডিটিভি অনলাইন এ তথ্য জানিয়েছে।
দিল্লির পরিবেশমন্ত্রী মনজিন্দর সিং সিরসা বাসিন্দাদের সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। এক্স-এ পোস্ট করা এক ভিডিওতে তিনি বলেন, তিনি দিল্লির বাসিন্দাদের অনুরোধ করছেন, কারণ আগামীকাল থেকে আবহাওয়া আরও খারাপ হতে চলেছে। তাঁর ভাষায়, বাতাস প্রায় পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে একিউআই আরও বেড়ে যাবে; আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী বাতাসের গতি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসতে পারে।
এই দূষিত বাতাস শরীরের ওপর কী প্রভাব ফেলছে, তা বোঝার জন্য এনডিটিভি কথা বলেছে প্রখ্যাত ফুসফুস বিশেষজ্ঞ এবং দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (এইমস)-এর সাবেক পরিচালক ডা. রণদীপ গুলেরিয়ার সঙ্গে।
ডা. গুলেরিয়া বলেছেন, দীপাবলি আসার আগেই এখন যে বাতাসের গুণমান দেখা যাচ্ছে, তা অত্যন্ত গুরুতর একটি সমস্যা। তিনি একে ‘নীরব মহামারি’ বলে অভিহিত করে বলেন, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে রোগীর সংখ্যা প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে গেছে।
তিনি বলেন, যাঁদের হাঁপানি বা সিওপিডি রয়েছে, এমনকি যাঁদের হৃদযন্ত্রের সমস্যা আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট ও বুকে অস্বস্তি বা চাপ অনুভূত হওয়ার প্রবণতা আরও বেড়ে যাচ্ছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, আগে থেকে শ্বাসতন্ত্রের কোনো সমস্যা ছিল না—এমন অনেক সুস্থ মানুষও এখন গলায় অস্বস্তি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাস নেওয়ার সময় শোঁ শোঁ শব্দ এবং হালকা কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী কাশির মতো সমস্যায় ভুগছেন; চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ব্রঙ্কিয়াল হাইপারঅ্যাক্টিভিটি।
ডা. গুলেরিয়া জানান, দূষণ শ্বাসপথ ও গলায় অস্বস্তি সৃষ্টি করে, যার ফলে শারীরিকভাবে সুস্থ ব্যক্তিদের মধ্যেও এসব উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। বয়স্ক ব্যক্তি ও শিশুরা—যারা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দলের অন্তর্ভুক্ত—তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
দূষিত বাতাস হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. গুলেরিয়া বলেন, হ্যাঁ, পারে। বাতাসে পিএম ২.৫-এর মাত্রা খুব বেশি হলে এই কণাগুলো ফুসফুস থেকে রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে এবং রক্তে মিশে যাওয়ার পর রক্তনালিতে প্রদাহ সৃষ্টি করে।


