কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ নেতাদের প্রতি অনাস্থা ফ্যাকাল্টি সিনেটের

যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি সিনেট শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ নেতাদের প্রতি 'অনাস্থা' জানিয়ে একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।
প্রস্তাবটি পাস হয়েছে ৭৫-৫০ ভোটে। পাঁচজন ফ্যাকাল্টি সিনেটর ভোটদানে বিরত ছিলেন এবং পাঁচজন ভোট দেননি। শুক্রবার বিকেলে ফ্যাকাল্টি সিনেট সদস্যদের পাঠানো এক ইমেইলে এই ফল জানানো হয়।
এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ভোট হয়েছে এবং ফল প্রকাশ করা হয় শুক্রবার।
ভোটের আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে অধ্যাপকদের মধ্যে বিতর্ক চলছিল—বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট মাইকেল কোটলিকফ ও অন্য প্রশাসকেরা এক সাবেক ছাত্রীর অভিযোগ যথাযথভাবে সামলেছেন কি না এবং যৌন অসদাচরণ রোধে তাঁরা যথেষ্ট করেছেন কি না, তা নিয়ে।
ওই সাবেক ছাত্রী অভিযোগ করেছেন, ২০২৪ সালে একটি ফ্র্যাটারনিটি পার্টিতে তাঁকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। প্রস্তাবটি প্রতীকী, কারণ ফ্যাকাল্টি সংস্থার বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ নেতাদের ওপর কোনো ক্ষমতা নেই। তবে প্রস্তাবের সমর্থকেরা বলেছিলেন, তাঁরা আশা করেন এতে ট্রাস্টিরা দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা হিসেবে তাঁরা যা দেখেন, তা জরুরিভাবে মোকাবিলা করতে চাপে পড়বেন।
সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে কর্নেল সম্প্রদায় উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। তখন ওই সাবেক ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয় ও চি ফাই ফ্র্যাটারনিটির সাত সাবেক সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় তিনি বলেন, ২০২৪ সালের অক্টোবরে ফ্র্যাটারনিটি হাউসে তাঁকে কেটামিন দেওয়া হয় এবং ধর্ষণ করা হয়।
অভিযুক্ত সবাই তাঁর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন; তাঁদের দাবি, হয় যৌন সম্পর্ক সম্মতিমূলক ছিল, নয়তো তাঁরা জড়িত ছিলেন না। স্থানীয় ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি প্রথমে সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন যে ওই নারী সম্পর্কে সম্মতি দিয়েছিলেন এবং কোনো অপরাধ ঘটেনি। তবে তদন্ত পরে আবার শুরু হয়েছে এবং তা নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেলের হাতে দেওয়া হয়েছে।
কয়েক মাসের টাইটেল নাইন তদন্তের পর কর্নেল কয়েকজন অভিযুক্ত ছাত্রের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। দুজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে, দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত ও প্রবেশন দেওয়া হয়েছে এবং দুজনকে 'প্রতিফলন' প্রবন্ধ লিখতে ও বাইস্ট্যান্ডার প্রশিক্ষণ শেষ করতে বলা হয়েছে। সপ্তম ব্যক্তি আগেই স্নাতক হয়েছিলেন; তাঁকে ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
কোটলিকফ ক্যাম্পাসে যৌন অসদাচরণের সমস্যা খতিয়ে দেখতে একটি টাস্কফোর্সও গঠন করেছিলেন, যা কিছু সুপারিশ প্রকাশ করেছে।
কিছু ফ্যাকাল্টি সদস্য কোটলিকফের ওপর ক্ষুব্ধ—শৃঙ্খলা প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করতে, ফৌজদারি তদন্তের জন্য চাপ দিতে এবং ক্যাম্পাস পার্টি সংস্কৃতি বদলাতে তিনি জোরালো পদক্ষেপ নেননি বলে তাঁদের অভিযোগ। অনাস্থা প্রস্তাবে কোটলিকফের পদত্যাগ দাবি করা হয়নি।




